পূর্ব মেদিনীপুর: খাদিকুলে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। মানস ভুঁইয়া, দোলা সেন, সৌমেন মহাপাত্রদের চোর চোর স্লোগান। স্বজনহারাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হিমশিম খেলেন শাসকদলের প্রতিনিধিরা।
বিক্ষোভের মুখে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল: এদিন মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বেরোনোর পরই বিক্ষোভের মুখে পড়েন মানস ভুঁইঞা, দোলা সেনরা। প্রবল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। শুধু বিক্ষোভই নয়, তৃণমূল প্রতিনিধিদলকে ঘিরে দেওয়া হয় চোর চোর স্লোগান। এই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সবংয়ের বিধায়ক মানস ভুঁইঞা বলেন, “রাজনৈতিক জীবনে বহু বিক্ষোভ দেখেছি। এখন নতুন নতুন রাম-বাম দেখছি।’’ এদিন দোলা সেন বলেন, “একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, এত জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিচার এবং তদন্ত চলছে। এটা ছোট রাজনীতির ইস্যু না। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁরা বলেছেন দিদি যেন আমাদের দেখেন।’’
মঙ্গলবার সকাল ১১ টা, ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার খাদিকুল গ্রাম। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, পুকুরের পাশেই একটি বাড়িতে ছিল ২ টি ঘর। সেখানেই ছিল বেআইনি বাজি কারখানা। এই বাড়ির একটি ঘরেই বিস্ফোরণ হয়। দেহ ছিটকে গিয়ে পড়ে পুকুরে। ২ টি পুকুরেই দেহের খোঁজে চলে তল্লাশি। বিস্ফোরণে উড়ে যায় গোটা বাড়ি। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা এলাকা। যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়, শুধু কাঠামোটুকু ছাড়া সেই বাড়িতে অবশিষ্ট নেই আর কিছুই। খাদিকুল গ্রামে যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে, সেখান থেকে এগরা থানার দূরত্ব কমবেশি ২২কিলোমিটার। এগরা দমকল কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। ঘটনাস্থল থেকে গোপীনাথপুরে মূল রাস্তার দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার।
এগরার খাদিকুল গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আজও থমথমে গোটা এলাকা। গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় CID-র টিম। আজ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ফরেন্সিক টিম। নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ফরেন্সিক আধিকারিকদের অনুমান, ঘটনাস্থলে পটাশিয়াম নাইট্রেট, সালফার, চারকোল জাতীয় পদার্থের হদিশ মিলতে পারে। নমুনা সংগ্রহের পর তা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত ভানু বাগের খোঁজে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে ভিন রাজ্য়ে পাড়ি দিচ্ছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: CEIR Mobile Tracker: মোবাইল হারিয়েছে? এক ক্লিকেই ব্লক ফোন! খুঁজেও পাবে পুলিশ!