কলকাতা: কড়া কমিশন, দিল্লি যেতেই হচ্ছে স্বরাষ্ট্রসচিবকে। ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণের জন্য দিল্লি যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। গতকাল রাজ্যের পাঠানো IAS, IPS তালিকা খারিজ করে দেয় কমিশন। পর্যবেক্ষকের প্রশিক্ষণ নিতে দিল্লি যেতেই হচ্ছে স্বরাষ্ট্রসচিবকে। কমিশনের তালিকায় থাকা রাজ্যের আমলাদের দিল্লি যেতেই হচ্ছে।
আরও পড়ুন, অন্তর্বর্তী বাজেটে একগুচ্ছ উপহার ! "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার" নিয়ে কী বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর ?
সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বিকল্প ৯ জন IAS অফিসারের নামের তালিকার পাঠিয়েছিল নবান্ন। অন্যদিকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব নিতে চাইলেন না দু'জন IPS অফিসারও। সেক্ষেত্রেও পাঠানো হয়েছিল বিকল্প নাম। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ভিন রাজ্যের ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোন IAS, IPS অফিসাররা যাবেন? তা নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্য়ে টানাপোড়েন চলছিল।নির্বাচন কমিশন যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে নজিরবিহীনভাবে নাম ছিল রাজ্য়ের স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে হাওড়ার পুলিশ সুপারের। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বিকল্প ৯ জন অফিসারের নামের তালিকার পাঠিয়েছিল নবান্ন।
মূলত চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভোট রয়েছে, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে এই প্রেক্ষাপটে ৫ রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নজরদারির জন্য় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। এই রাজ্যের মোট ২৫ জন IAS এবং IPS অফিসারের নাম রাখা হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই তালিকায় নাম ছিল পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা, এবং হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীন ত্রিপাঠিরও।স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকে তো ট্রেনিং নিতেও নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তাদের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে চারবার রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, রাজ্য সরকার কোনও তালিকা দেয়নি। তারপরই স্বরাষ্ট্রসচিব ও হাওড়ার পুলিশ কমিশনারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে নবান্ন। স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ ৯ অফিসারের বিকল্প হিসেবে অন্য ৯জন IAS অফিসারের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনকে পাঠিয়েছিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। সেখানেই ৯ জন বিকল্প IAS অফিসারের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার বলেছিলেন, এই নির্বাচন কমিশন যে একেবারে নিরাপক্ষ নয়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আমরা অনেকবার করেছি, হরিয়ানায় করেছি, অসমে করেছি। অনেক জায়গায় ডিউটি করেছি। রাজ্য সরকার থেকেও পর্যবেক্ষক নেওয়া হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে পুলিশ অফিসারকে পাঠানো হয়েছিল। সেসব করা হয়। কিন্তু আমি বারবার সৌজন্যের কথা বলি। দুপক্ষ সৌজন্য রাখলে এসব জিনিস, এরকম হয়ে ওঠে না। ভোটের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের বেছে নেওয়ার নিয়মটা ঠিক কী? ব্য়ক্তিগত অসুবিধার কারণ জানিয়ে রাজ্যের ২জন IPS অফিসার পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব না নিতে চেয়ে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রেও বিকল্প দু'জনের নাম দেওয়া হয়েছিল।