কলকাতা: জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে তোলপাড়। পশ্চিমবঙ্গ-গোয়ার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে আপত্তি ২ কমিশনারের। SIR ও ভোটার তালিকা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তে আপত্তি ছিল ২ কমিশনারের। আপত্তি তুলেছিলেন ২ নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু ও বিবেক জোশী। ২ নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদপত্রের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট।
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'অভিযোগগুলো আজ থেকে এক বছর, দেড় বছর আগে থেকে করছি। সেই অভিযোগগুলো আজকে বাকি যে ২ জন নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন, তাঁরা করেছে। সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে যে আর্টিকেলটা আজকে বেরিয়েছে, এটা স্পষ্ট যেভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা রাজনৈতিক দলকে বাড়তি সুযোগ করে দেওয়ার জন্য, সুবিধা করে দেওয়ার জন্য ৩০ লক্ষ লোককে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ইলেক্টোরাল রোল থেকে এবং খালি বাংলা নয়, এই একই জিনিস হরিয়ানায় হয়েছে, একই জিনিস মহারাষ্ট্রে হয়েছে, একই জিনিস বিহারে হয়েছে। বাংলায় ৩০ লক্ষ লোককে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। আজকে সুপ্রিম কোর্টের যে বেঞ্চ ছিল, সেখানেও আপনারা দেখেছেন যে, বিচারপতিদের ওপিনিয়ন (মতামত) ডিভাইডেড (বিভক্ত)। লার্জার বেঞ্চ গঠন করার জন্য বলা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে NOC ইস্য়ু করা উচিত'।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'অনেকের চিন্তা ছিল আমি বাইরে যাব, ফিরব কিনা। আমি ফিরে এলাম। আমি কলকাতায়। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে NOC ইস্য়ু করে, যাতে দেশ থেকে পালাতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা উচিত। এবং, তাকে গ্রেফতার করা উচিত। যে ভাবে বিজেপির হয়ে, ভোটার লিস্টে চুরি করে, নির্বাচন চুরি করেছে। আমি মনে করি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতার হওয়া উচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হয়েছিল। লোকসভা, রাজ্য়সভা ইমপিচমেন্ট মুভ করার পরে, কোনও কারণ না দেখিয়ে ইমপিচমেন্ট রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে। ভূভারতে স্বাধীনতার পর কোনওদিন হয়নি। তাঁকে নিয়োগ করার নিয়ম পাল্টে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জাজমেন্টকে মান্য়তা না দিয়ে, সেই জাজমেন্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, সংসদে নতুন রুল... বিল এনে, নতুন আইন এনে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি এবং প্রধানমন্ত্রী যাতে নির্বাচন কমিশনারকে মনোনয়ন করতে পারে, যে প্রধানমন্ত্রীর হয়ে, প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে ওই পদে বসবে, সে তো প্রধানমন্ত্রী আর বিজেপি নেতার জন্য়ই কাজ করবে। এটা তো স্পষ্ট। আজকে, বিড়াল ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়েছে। আজকে এটা স্পষ্ট এবং যত দ্রুত সম্ভব, বাংলার অভিশাপ লেগে গেছে। গায়ের জোরে, জোর জবরদস্তি তারা বাংলা দখল করতে এসেছিল। সারা ভারতবর্ষে আজকে বিজেপির পরিস্থিতি খুব করুণ। আগামীদিনে আরও খারাপ হবে। যাদেরকে সাংবিধানিক পদগুলোতে বসিয়ে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্য়বহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা-মন্ত্রীরা নেমেছিল, আগামীদিন তাদের সকলকে শ্রীঘরে থাকতে হবে।'
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি বিরোধীদের, পাল্টা আক্রমণে বিজেপি। তিনি বলেন, "সব রাজ্যের ভোটে সফল নির্বাচন কমিশন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বিরোধী। সাংবিধানিক সংস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেছে বিরোধীরা।'
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি কপিল সিব্বলের। বর্ষীয়ান আইনজীবী বলেন, 'নিজের ইচ্ছামতো একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বেআইনি কাজ করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার', অভিযোগ কপিল সিব্বলের। পশ্চিমবঙ্গ-বিহারের মতো রাজ্যের ভোট বাতিলের দাবিতে সরব কপিল সিব্বল।
