কলকাতা: আইপ্যাকে ED-তল্লাশি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূল। ED-র বিরুদ্ধে দায়ের করা FIR-গুলিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আপাতত ED-র বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধাদানের যে অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে আদালত। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, তদন্তকারী সংস্থা যেমন কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তেমনই আইন মেনে কোনও সংস্থা তদন্ত করলে, তাতেও বাধা দেওয়া যায় না। আদালত ঠিক কী বলল দেখে নেওয়া যাক একঝলকে-
- প্রত্যেক সংস্থা, কেন্দ্রীয় সংস্থা হোক বা অন্যান্য সংস্থা, তাদের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
- দেশে আইনের শাসন কায়েম রাখতে, প্রত্যেক সংস্থাকে স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে গোটা বিষয়টি ভাল ভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ এখানে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে রাজ্যের সংস্থা হস্তক্ষেপ করেছে।
- কোথাও কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে, সেখানকার স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের আড়ালে অপরাধীরা যদি আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে, তা কতটা ন্যায়সঙ্গত হবে এবং স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসন যদি তাদের আশ্রয় দেয়, তা কতটা যুক্তিসঙ্গত হবে?
- এই বিষয়টি অমীমাংসিত থাকতে পারে না। কারণ গোটা দেশের এক এক জায়গায়, এক একটি দল পরিচালিত সরকার রয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে।
- নির্বাচনী কার্যকলাপে যেমন কোনও তদন্তকারী সংস্থা বা কেন্দ্রীয় সংস্থা হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তেমনই কোনও দলের নির্বাচনীর কার্যকলাপের আড়ালে যদি কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা যদি সৎ উদ্দেশ্যে, উপযুক্ত অনুমতি নিয়ে কাজ করে থাকেন, তাঁদের বিরত করা যায় কি না, সেই বৃহত্তর প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং সমাধানের চেষ্টা করবে আদালত।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিমঘরে চলে যাওয়া কয়লা পাচার মামলা নিয়ে হঠাৎ কেন সক্রিয় হল ED, গোড়া থেকেই সেই প্রশ্ন তুলে আসছিল তৃণমূল। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ED-কে ব্যবহার করছে, আইপ্যাকে তল্লাশি চালিয়ে তৃণমূলের গোপন তথ্য, নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাল্টা ED-র দাবি ছিল, তারা কিছু বাজেয়াপ্ত করেনি। বরং যে নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা ছিনিয়ে নিয়ে বেরিয়ে যান মমতা। তদন্তে বাধাদানের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে CBI তদন্তের দাবিও জানায় ED.