কলকাতা: কয়লাকাণ্ডে দিল্লির একটি পুরনো মামলায় রাজ্যে ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় দু'-আড়াই বছর পর ওই মামলায় রাজ্যে ফের সক্রিয় হল ED. বৃহস্পতিবার লাউডন স্ট্রিটে নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা I-Pac কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছেছেন ED-র আধিকারিকরা। পাশাপাশি, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভেও I-Pac-এর অফিসেও পৌঁছেছে ED. কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছন। (ED Raids at iPac Office)
শেক্সপিয়র সরণী এলাকার লাউডন স্ট্রিটের একটি বহুতল আবাসনে এদিন প্রথমে প্রতীকের বাড়িতে হানা দেয় ED. মূল ফটকটি বন্ধ ছিল। ভিতরে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং কলকাতা পুলিশের অফিসারদেরও। ED সূত্রে খবর, ওই আবাসনের থার্ড ফ্লোরে থাকেন প্রতীক। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন ED-র আধিকারিকরা। (Kolkata News)
সেক্টর ফাইভে I-Pac-এর যে অফিস রয়েছে, সেখানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ এই তল্লাশি কেন? ED সূত্রে খবর, দিল্লির ED আধিকারিকরা গতকাল রাতে কলকাতা পৌঁছন। সেই দিল্লি জ়োনের অফিসাররাই এদিন কলকাতার তিনটি জায়গায় শুরু হয়েছে। প্রতীকের বাড়ি, iPac-এর অফিসের পাশাপাশি, পোস্তায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চলছে।
কয়লাকাণ্ডের একটি পুরনো মামলায় নতুন করে এই সক্রিয়তা। কয়েক বছর আগে এই মামলাতেই একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হ. অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে। আরও বহু জনকে দিল্লির অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই পুরনো মামলাতেই এবার নতুন করে সক্রিয় ED. ED সূত্রে খবর, লালা এবং তার শাগরেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, টাকার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য় খুঁটিয়ে দেখার পর এই তল্লাশি। ED অফিসাররা মনে করছেন, iPac-এর অফিসে, প্রতীকের বাড়িতে গিয়েও তদন্ত করা প্রয়োজন।
কিছু দিন আগেও কয়লাকাণ্ডে একাধিক তল্লাশি চলে। কিন্তু সেটি মূলত কলকাতা ও ঝাড়খণ্ডের মামলা ছিল। আজ যে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে, তা তিন থেকে চার বছর আগে কয়লা পাচার মামলা। সেই মামলা ডিপ ফ্রিজে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এত বছর, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন হঠাৎ কেন এই তৎপরতা? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই।
সূত্রের খবর, বেশ কিছু লেনদেন এবং সূত্র থেকেই I-Pac-এর নাম উঠে আসে এবং সেই প্রেক্ষিতেই এই অভিযান। সকাল ৬টার কিছু পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোন দিল্লির অফিসাররা। এর পর তিনটি ভাগ হয়ে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস, প্রতীকের বাড়ি এবং পোস্তার ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছে যান। সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সকালে যখন সেখানে পৌঁছন তদন্তকারীরা, সেই সময় শুধুমাত্র নাইট শিফ্টের দু'জন কর্মী ছিলেন। সকালের কেউ তখনও ঢোকেননি। তল্লাশি চলছে বলে আপাতত প্রবেশ-প্রস্থান পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লিফ্টও চলছে না আপাতত। কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছে চারিদিক।
অন্য দিকে, দীর্ঘ সাড়ে ঘণ্টা ধরে তল্লাশির পর প্রতীকের আবাসনের ফটক খুলে দেওয়া হয়। জানা যায়, কলকাতা পুলিশের কমিশনার সেখানে পৌঁছবেন। আপাতত যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই রাস্তাও। ২০২১ সালের ওই মামলা দিল্লিতে ED-র সদর দফতরে নথিভুক্ত হয়। একাধিক বার সেই নিয়ে তল্লাশি চলে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় লালাকে। গ্রেফতার করা হয় অশোক ও বিকাশ মিশ্রকে। দিল্লিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যে এই মুহূর্তে রাজনীতির পারদ চড়ছে একটু একটু করে। সব পক্ষই ময়দানে নেমে পড়েছে। সেই আবহেই আজ কলকাতায় আসছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের দু'দিন আগেই কলকাতা আসছেন তিনি। সকালে কলকাতা পৌঁছনোর পর বেলায় সল্টলেকের হোটেলে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন। গতকালই বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটির ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন রাজ্য কমিটির প্রথমে বৈঠকেই উপস্থিত থাকছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বিকেলে স্প্রিং ক্লাবে চিকিৎসকদের একটি সভায় যোগ দেবেন। রাতে নিউটাউনের ওয়েস্ট ইন হোটেলে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন নাড্ডা। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারদের ওই বৈঠকে হাজির থাকার কথা।
আগামীকালও ওয়েস্ট ইন হোটেলে একাধিক ঘরোয়া বৈঠকে বসতে পারেন জেপি নাড্ডা। গত ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে এসে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জিতে ক্ষমতায় আসার হুঙ্কার ছেড়েছিলেন অমিত শাহ। বিধায়কদের হোমওয়ার্কও দিয়ে যান তিনি। সূত্রের খবর, কলকাতা ও তার আশেপাশের ২৮ আসনের মধ্যে ২০টিতে জয়ের টার্গেট বেঁধে দেন শাহ। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি সভাপতি আজ সাংগঠনিক বৈঠক থেকে কী বার্তা দেন, সেটাই দেখার।
