কলকাতা: মার্লিন গ্রুপের কর্ণধার সুশীল মোহতার বাড়ি-অফিসে তল্লাশি ED-র। মার্লিন গ্রুপের একাধিক ডিরেক্টরের বাড়িতেও তল্লাশি। কলকাতায় একটি প্রজেক্টের নামে কোটি কোটি টাকা তুলে প্রতারণার অভিযোগ। প্রজেক্টের নাম করে জাল নথি তৈরির অভিযোগ মার্লিন গ্রুপের বিরুদ্ধে। আলিপুর, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, সল্ট লেক-সহ কলকাতার সাতটি জায়গায় তল্লাশি ED-র। প্রাথমিক শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় এর আগে সুশীল মোহতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দায়ের হয়েছিল। (Merlin Group Raided)
কলকাতার বড় ডেভলপার হিসেবে নামডাক রয়েছে মার্লিন গ্রুপের। বুধবার সকাল থেকে একসঙ্গে সাতটি জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে মার্লিনের অফিসের বাইরে এদিন পৌঁছয় এবিপি আনন্দ। সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, ED আধিকারিকদের গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে বাইরে। ভিতরে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ED সূত্রে জানা যায়, শুধু মার্লিন গ্রুপের অফিস নয়, কর্ণধার সুশীল মোহতা এবং সাকেত মোহতার আলিপুরের বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছেন ED আধিকারিকরা। (Sushil Mohta)
পাশাপাশি, মার্লিন গ্রুপের বিভিন্ন ডিরেক্টরের বাড়িতেও হানা দেন ED আধিকারিকরা। বাগুইআটি থেকে সল্টলেকেও চলে তল্লাশি। এক্ষেত্রে অভিযোগ হল, জাল নথি তৈরি করে জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়। সেই জমি দেখিয়ে প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে। ওই জমি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা করা হয় বলে অভিযোগ। ওই প্রজেক্ট দেখিয়ে কেন কোটি কোটি টাকা তোলা হল, সেই টাকা কোথায় গেল, এতে কোনও প্রভাবশালীর সংযোগ রয়েছে কি না, কোথাও থেকে মদত এসেছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্য দিকে, রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুকে ফের তলব করেছে ED. পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিতকে তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার CGO কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়েছে তাঁকে। গত শুক্রবারই হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল সুজিতকে। কিন্তু তদন্তকারীদের সময় চেয়েছিলেন তিনি। সোমবারও হাজিরা দিতে যাননি সুজিত। তাতেই ফের সুজিতকে তলব করা হল। এই মুহূর্তে ভোটের প্রচারে ব্যস্ত সুজিত।
তবে শুধু সুজিতই নন। রাজ্যের আর এক মন্ত্রীর উপরও নজর রয়েছে ED-র। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করা হয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই তলব করা হয়েছিল তাঁকে। বুধবার CGO কমপ্লেক্সে যেতে বলা হয়েছিল তাঁকে। তদন্তকারীদের কাছে সময় চান রথীনও। এর আগে, জমি দখল মামলায় রাসবিহারির বিধায়ক দেবাশিস কুমারকেও তলব করে ED. নির্বাচনের মুখে দলের নেতা-মন্ত্রীদের তলবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দেখছে তৃণমূল।
