রুমা পাল, ফলতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ময়দানে নেই তৃণমূলের 'পুষ্পা', ভয়মুক্ত ভোট দিচ্ছে ফলতা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফলতায় ভোট পড়ল ৮৬.১১%. ফলতার ২৮৫টি বুথে ভোট হয়েছে আজ। সকাল থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘুরেছে বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ খোদ 'পুষ্পা'র বাড়ির এলাকা। ফলতার শ্রীরামপুর গ্রামে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের অভয়-বার্তা দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।
২৯ এপ্রিল ভোট হয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতায়। তবে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে, সেই ভোট পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের তরফে জানানো হয়, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৬০টি বুথে ভোট চলাকালীন বেনিয়ম ধরা পড়েছে। CCTV ফুটেজে অনেক বুথে একসঙ্গে অনেককে ঢুকতে-বেরতে দেখা গেছে। বহু বুথে CCTV ফুটেজও মেলেনি। ১৩টি বুথের ফুটেজে ব্যাপক গরমিল দেখা গেছে। এর পাশাপাশি কোথাও EVM-এ কালো টেপ লাগিয়ে দেওয়া, কোথাও EVM-এর বোতামে আতর লাগানোর মতো অভিযোগও ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যার ভিত্তিতে নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোটের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। সেখানে আজ ফের ভোট।
'ওরা কিন্তু ভোট মেরে দেবে...', ফলতায় ১০০ শতাংশ নির্বাচনের আহ্বান সজল ঘোষের
২৯ এপ্রিল, ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে, ফলতার নির্বাচন বাতিল করে দেয় কমিশন। আর বৃহস্পতিবার, সেই ফলতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পুনর্নির্বাচনের সাক্ষী থাকলেন এলাকার বাসিন্দারা। আক্ষরিক অর্থেই 'ভয় আউট, ভরসা ইন' হল সেখানে। ১৫ বছর ধরে সুস্থ ভোট চাক্ষুষ করেনি ফলতাবাসী। গত প্রায় দেড় দশক ধরে কীভাবে জাহাঙ্গির খান ও দলবলের চোখরাঙানির সম্মুখীন হয়েছিলেন এখানকার বাসিন্দারা, সেই অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরলেন তাঁরা। বুথে বুথে শোনা গেল ভোট সংক্রান্ত একগুচ্ছ অভিযোগ।
ফলতায় 'ভয় আউট, ভরসা ইন'। ভোটারদের লম্বা লাইন। সাঁজোয়া গা়ড়ির টহলদারি। আবির মেখে উৎসব পালন। বিজেপির তরফে রান্নাবান্নার আয়োজন। নেই অশান্তি। নেই রক্তপাত। নেই বেনিয়ম, কারচুপি। আগের কলঙ্ক মুছে, এক কথায় শান্তিপূর্ণ ভোটের সাক্ষী থাকল ফলতাবাসী। পুনর্নির্বাচনের দিন, আক্ষরিক অর্থেই 'ভয় আউট, ভরসা ইন' হল ফলতায়। ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে, গোটা ফলতার নির্বাচনই বাতিল করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আর বৃহস্পতিবার পুনর্নির্বাচনে, ফলতা জুড়ে দেখা গেল ঢালাও নিরাপত্তা। সিইও দফতরের কন্ট্রোল রুম থেকেই চলেছে নজরদারি। আর এখান থেকেই ওয়েবকাস্টিং চলেছে। এখানে রয়েছে ১১৪০টি ক্যামেরা। বাইরেও দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার মাধ্যমে দেখা গিয়েছিল সবটা। ওয়েবকাস্টিং-এর মাধ্যমে দেখা গিয়েছে সবকিছু। শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে এবং খুব ভাল ভোট হয়েছে।
