পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা :  ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আবহে গ্রেফতার জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা। পুলিশের জালে ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল খান (Saidul Khan )।

পুলিশ সূত্রে দাবি, সাইদুল খানের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানো-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে ফলতা থানার পুলিশ। পুনর্নির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি যথেষ্ট বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে এলাকার মানুষ।  যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও।  

কোনও রক্তপাত নয়, খুনোখুনি নয়, এবছর একদিকে যেমন এরকম নজিরবিহীন ভোটের সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। তেমনি আবার ভোটে কারচুপির অভিযোগে বেনজিরভাবেই গোটা ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এবার রি-পোলের আগে নেওয়া হল এই পদক্ষেপ। গতকালই ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান-সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হয় FIR. ৬ বছরের শিশুকন্যাকে খুনের অভিযোগে ৯ বছর আগের ঘটনায় FIR রুজু করে পুলিশ। নিহত শিশুর বাবার অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে ২০১৭ সালে সদলবলে বাড়িতে হামলা চালায় জাহাঙ্গির খান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।

অশান্তির আশঙ্কায় ভোটের অনেক আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের নজরে ছিল ফলতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে উত্তরপ্রদেশের IPS অফিসার অজয় পাল শর্মাকে দায়িত্ব দেয় কমিশন। যিনি আবার 'সিঙ্ঘম' পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্তদের খোঁজে তাঁকেও ফলতায় টহল দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে নিজেকে রিলের 'পুষ্পা' বলে দাবি করে, পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় এখানে।  ফলতায় ভোট নিয়ে পরপর অভিযোগ আসতে শুরু করে। বিজেপি প্রার্থী থেকে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মুখে উঠে আসে হুমকি, অত্যাচার, মারধরের মতো বহু অভিযোগ। কারচুপির অভিযোগে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায় বিজেপি। পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন কমিশন জানায় , গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট বাতিল হচ্ছে। সেখানে পুনরায় ভোট হবে ২১ মে। ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। ফলতার নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট কড়া প্রশাসন।  আরও পড়ুন : ভোটের প্রচারে লাগাতার হুমকি, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR, কোন কোন ধারায় অভিযোগ?