কলকাতা: FIR দায়ের নিয়ে ডেডলাইনের পর ২০ ঘণ্টা পার, 'অকুতোভয়' মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ?। এখনও পর্যন্ত মণিরুলের নামে দায়ের হয়নি কোনও FIR। যে BDO অফিসে তাঁর উপস্থিতিতে ভাঙচুর, গতকাল সেখানেই 'হম্বিতম্বি' দেখিয়েছেন বিধায়ক। BDO অফিসে এসে ফের নিজের দাপট দেখিয়েছেন ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক। কী কী করতে হবে, কার্যত নির্দেশ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন মণিরুল ইসলাম। BDO-DM-এর সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেছেন, যেন তিনিই চালান প্রশাসন! 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, 'ভারতবর্ষের মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা হচ্ছে', নেতাজির জন্মদিনে কমিশনের বিরুদ্ধে বড় প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর

Continues below advertisement

১৪ জানুয়ারি ফারাক্কায় সরকারি অফিসে তাণ্ডব, ভাঙচুরের ঘটনায় গতকালই তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে FIR করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে, গতকাল বিকেল ৫ টার মধ্যে FIR দায়ের করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কারণ ইতিমধ্যেই তাণ্ডবের সেই ভাইরাল ভিডিও  নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। যেখানে তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনকে যে ভাষায় তাঁরা আক্রমণ করছে, তা কমিশনের চোখে পড়েছে। এবং তাঁরা দেখেছেন, এবং তাঁরা মনে করেছেন, এটা প্ররোচনামূলক। তার সঙ্গে এটাও ঠিক যে, এটা উসকানিমূলক এই ধরণের আচরণ। এবং সেই কারণেই মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

প্রথমে তাঁর নেতৃত্বে BDO অফিসে ভাঙচুর! তারপর নির্বাচন কমিশনকে লাগামছাড়া আক্রমণ। ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে FIR দায়ের করতে জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু শুক্রবার হয়ে গেলেও তা করেনি প্রশাসন। কার্যত উপেক্ষা করা হয় কমিশনের নির্দেশ। এরপরই শুক্রবার ঘটনা নতুন মোড় নেয়। কমিশনের নির্দেশ মতো তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করার পরিবর্তে ঘটনার তদন্তের জন্য মহকুমাশাসককে নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক।যার ফলে আরও জোরালো হল নির্বাচন কমিশন বনাম রাজ্য সরকারের সংঘাত। 

বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে তৃণমূলের সম্পদ বলেই কি মণিরুল ইসলামের সামনে এভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রশাসন? ১৪ জানুয়ারি প্রথমে তাঁর উপস্থিতিতে বিডিও অফিসে ভাঙচুর-তাণ্ডব চলে। তারপর সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে হুমকি দেন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। মণিরুল ইসলাম বলেন, 'কঞ্চির ঝান্ডা চলবে না। লাঠিতে বাঁধতে হবে, লাঠিতে। কোমরকে ঢিলা করে দিতে হবে নির্বাচন কমিশনের।  পাতাল থেকে ছেঁচড়ে বের করব।'কিন্তু বিডিও অফিসের ভাঙচুরের ঘটনাতেও পুলিশ তৃণমূল বিধায়ককে ছোঁয়নি। উল্টে বৃহস্পতিবার একেবারে দাপুটে মেজাজে ফারাক্কার বিডিও অফিসেই দেখা যায় তাঁকে ! আর এবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকেও কার্যত উপেক্ষা করল প্রশাসন। অন্যদিকে মুখ্য়সচিবকে নির্বাচন কমিশন চিঠি দেওয়ার পরও ৪ নির্বাচনী অফিসারের বিরুদ্ধেও এখনও কোনও ব্য়বস্থা নেয়নি সরকার।