অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : 'বাংলা ফিরে এসেছে, দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে।' তাজ বেঙ্গলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শিল্পক্ষেত্রে রাজ্যের উন্নতি করতে গেলে, সবচেয়ে আগে করতে হবে কলকাতার উন্নয়ন। বললেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সঞ্জীব সান্যাল।  

Continues below advertisement

প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শিল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি সরকার। এই প্রেক্ষিতে, শুক্রবার কলকাতার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হল 'বিকশিত বাংলার সূচনা' শীর্ষক এক অনুষ্ঠান। যার মূল বিষয় ছিল - 'পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে উন্নয়নের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের পুনরুজ্জীবন।' 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। সঞ্জীব সান্যাল বলেন, "নতুন করে বিনিয়োগ পেতে এবং কলকাতার ইকো সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে গেলে বেশ কয়েকটা জিনিস করতে হবে। শিল্পের জন্য কারও জমি চাই, কারও শিল্প-বাণিজ্য বিধির পরিবর্তন চাই, যেগুলো এখন শিল্পবান্ধব নয়, গত ১৫ বছরে যা হয়েছে আমরা দেখেছি। বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে শিল্প এবং বাণিজ্য জড়িয়ে আছে। এবং প্রত্যেক বাঙালির রক্তে বাণিজ্য আছে। সেই স্পিরিট ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলার বিকাশ, বিকশিত ভারতে বড় ভূমিকা নেবে।" 

Continues below advertisement

অনুষ্ঠানে রাজ্যের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, "আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শিল্প, ব্যবসা ও বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে কিছুদিন আগে এই পরিবেশ ছিল না। আমরা এগুলোর বিষয়ে আশাবাদী। আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছি, যেখানে আমরা ভুল করলে, আপনি আমাদের বলতে পারবেন, ফোন করে বলতে পারবেন কোনও ভয় ছাড়া, যে আমরা ভুল করেছি, বা আপনার কাছে বিকল্প কোনও প্রস্তাব আছে। এই মুক্ত পরিবেশের অভাব ছিল, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়েছে। আমরা সেটা বুঝতে পেরেছি।" 

তাঁর সংযোজন, "বেঙ্গল ইজ ব্যাক, ব্যাক উইথ এ ব্যাং। পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন ফিরছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে পশ্চিমবঙ্গ। আশা করছি, বাঙালিরা এর পূর্ণ সুবিধা লাভ করবে।"

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে বিনিয়োগ প্রস্তাব। এল অ্যান্ড টি-র তরফে ডেটা সেন্টার তৈরি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থান এবং হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস-এ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বার্জার পেন্টস-এর তরফে ৬০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেছেন, "ইতিহাস বলে, পশ্চিমবঙ্গ একসময় দেশের শিল্প-বাণিজ্যের হৃদয় ছিল। কলকাতা ছিল দেশের উল্লেখযোগ্য বন্দর শহর। অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার বিভিন্ন শিল্প শুধু দেশেই নয় এশিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল। ভবিষ্যতের কথা ভেবে কেন আবার ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ হবে না? আমাদের লক্ষ্য শুধু অতীত অর্থনীতিকে ফেরানো নয়, আমাদের লক্ষ্য আগামী দিনের অর্থনীতির ভিত তৈরি করা।" 

পিয়ারলেস সংস্থার পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ৬০০ কোটি টাকা এবং আবাসন ও মল নির্মাণে ২০২৯ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি বিনিয়োগ হবে।