কলকাতা: শহরে ফের অগ্নিকাণ্ড। কলকাতা হাইকোর্টের পাশে আগুন এবার। হাইকোর্চের পুরনো বাড়িতে যে ল ফার্ম চলে, সেখানে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের দু'টি ইঞ্জিন। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে. পর পর বিস্ফোরণ ঘটে মিটার বক্সে। এই মুহূর্তে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। আগুন মোটামুটি ভাবে নিয়ন্ত্রণেও চলে এসেছে বলে খবর (Fire Near Calcutta High Court)

Continues below advertisement

কলকাতা হাইকোর্টের এফ গেটের উল্টো দিকে, ১০ নম্বর ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটের বিল্ডিংটিতে আগুন লাগে। ওই বিল্ডিংয়ে অনেক ল ফার্ম রয়েছে। শনিবার সেখানে কাজ চলাকালীন গ্রাউন্ড ফ্লোরের মিটার বক্সে পর পর ফ্ল্যাশ হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দু'টি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন দমকল বিভাগের কর্মীরা। তবে ওই বিল্ডিংয়ে যেহেতু একাধিক ল ফার্মের অফিস রয়েছে, আইনজীবী, ক্লার্করা কাজ করছিলেন, তাই ভাল করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। (Kolkata Fire)

আরও পড়ুন: ‘ফূর্তি করার জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র টাকা ফেরত দিতে হবে কাদের? জানালেন দিলীপ

Continues below advertisement

এদিন মিটার বক্সগুলিতে পর পর ফ্ল্যাশ হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপর থেকে সকলে নেমে আসেন নীচে। সেখানে ইলেকট্রিক প্যানেল রয়েছে। বৈদ্যুতিক তার একে অপরের সঙ্গে জড়ানো অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। আগেই মেন সুইচ অফ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় গোটা বিল্ডিংয়ের।

ঘটনার সময় ওই বিল্ডিংয়ে কর্মরত লোকজন বলেন, "এখানে আগুন লেগে গিয়েছিল। ব্লাস্ট হয়েছিল। অনেক ক্ষণ ধরে চলছিল জিনিসটা। কিছু ক্ষণের মধ্য়েই দমকল চলে আসে। এমনি আগেই মেন ফেলা হয়ে গিয়েছিল।" কলকাতা হাইকোর্টের মতো জায়গায় এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন অনেকে। শনিবার এমনিতে হাইকোর্ট বন্দর। ছুটি ওই এলাকায়। কিন্তু ল ফার্মগুলিতে কাজ চলছিল। পুলিশও পৌঁছয় ঘটনাস্থলে।

আরও পড়ুন: মরুভূমিতে লঞ্চপ্যাড, রেল যোগাযোগ…পরমাণু ঘাঁটির কাছে এসব কী করছে চিন? গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি? স্যাটেলাইট-ছবি ঘিরে শোরগোল

এদিনের ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে এদিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে। এক ব্যক্তি বলেন, "আমি চেম্বারে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখছি ব্লিঙ্ক করছে। আমি ভাবলাম এই রে সেভ করিনি। যে মামলাগুলির কাজ করছিলাম সেভ করা হয়নি। তার পর দেখছি হয়েই যাচ্ছে। বাইরে থেকে শুনলাম আগুন লেগেছে। ওখান থেকে বেরিয়ে এলাম। দেখছি, প্যাসেজের মিটারগুলি এক এক করে ব্লাস্ট করছে। ধোঁয়া ঢুকে গিয়েছে চেম্বারেও। চেম্বার বন্ধ না করে, যেমন ছিল, সেই অবস্থায় চলে এসেছি। আমরা যা হোক করে চলে আসি। দেখছি তখনও বাইরের ট্রান্সফর্মারে কেউ হাত দেয়নি। আমার সামনেই খুলল। সিইএসসি-র লোক নেই যেহেতু...।" ঘটনার অনেক পরও সিইএসসি-র লোক পৌঁছয়নি বলে জানান তাঁরা। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণ হয়। দু'বছর আগে সাজিয়ে দিয়েছিল সিইএসসি। তার পরও এই ঘটনায় আতঙ্কিত সকলে। বাইক-গাড়িও ছিল ঘটনাস্থলে। বড় কিছু ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সকলে। আর এক জন জানিয়েছেন, আগুন ছিটকে বেরোচ্ছিল। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল গোটা এলাকা। তবে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিইএসসি-র কর্মীরা। তাঁরা ইলেকট্রিক প্যানেল খতিয়ে দেখেন। মিটার বক্সগুলি গলে গিয়েছে বলেও চোখে পড়ে।

বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার এদিন ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, বিল্ডিংটি ট্রাস্টের সম্পত্তি। ১০০-১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে অফিস চলছে। টাকা বাড়াতে বললেও বাড়ানো হয় না। ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হয় না।