পার্থপ্রতিম ঘোষ ও ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: তারাপীঠের হোটেলে, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্য়ু হয়েছে ৯ জনের। যে হোটেলে বেঘোরে এতগুলো প্রাণ চলে গেল, জানা যাচ্ছে, তাদের ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত সমস্ত নথি, ফায়ার লাইসেন্স সব ছিল! কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পুরো ফায়ার সিস্টেমটাই ছিল অকেজো! সাঁইথিয়া দমকলকেন্দ্রের যে OC-র রিপোর্টের ভিত্তিতে সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে সাসপেন্ড করল দমকল বিভাগ।

Continues below advertisement

আগুন থেকে বাঁচানো গেল না প্রাণ, কিন্তু খাতায় কলমে ছিল লাইসেন্স, নথি সব!

কেউ ঘুমের মধ্য়েই শেষ... কেউ বাঁচার চেষ্টা করলেও, পারেননি! তারাপীঠের হোটেলে, ভয়াল আগুনে ঝলসে, দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন... আগুন লাগার পর এখনও অবধি তারাপীঠের ১৫ টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এদিকে যে তারাপীঠের যে বিদেশিনী হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বেঘোরে এতগুলো প্রাণ চলে গেল... এখন জানা যাচ্ছে যাচ্ছে, খাতায় কলমে তাদের ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত সমস্ত নথি থেকে, ফায়ার লাইসেন্স সব ছিল! ২০২৫ সালে, এই বিদেশিনী হোটেলকে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, সাঁইথিয়া দমকলকেন্দ্রের OC অভয় চৌধুরী। যাঁকে এবার সাসপেন্ড করল দমকল বিভাগ! ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার থাকলেও আগুন লাগার মুহূর্তে তা ব্য়বহার করা যায়নি। 

Continues below advertisement

কাজ করেনি ফায়ার সিস্টেম, অথচ ছিল লাইসেন্স!

কারণ, নিয়ম অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে, তবেই এই সার্টিফিকেট পাওয়ার কথা... কিন্তু অগ্নিকাণ্ড প্রমাণ করে দিল, বাস্তবে পুরো ফায়ার সিস্টেমটাই ছিল অকেজো! ঠিক যে কারণে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে বাজেনি ফায়ার অ্য়ালার্ম। বন্ধ ছিল ইমার্জেন্সি এক্সিট। শুধু তাই নয়, তারাপীঠের বিদেশিনী হোটেলে ২ হাজার লিটারের রিজার্ভার ট্য়াঙ্কের জন্য় ছোট 1hp পাম্প ছিল। দমকল সূত্রে দাবি, আগুন নেভাতে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন, সেটাও কাজ করে না। এত কিছু না থাকা সত্ত্বেও, সাঁইথিয়া দমকলকেন্দ্রের OC-র রিপোর্টের ভিত্তিতে সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স পেয়ে গেছিল এই হোটেল! কীভাবে তা সম্ভব!

সাসপেন্ড সাঁইথিয়া দমকলকেন্দ্রের OC অভয় চৌধুরী

অবশেষে অগ্নিকাণ্ডে ৯জনের মৃত্য়ুর পর সাঁইথিয়া দমকলকেন্দ্রের OC অভয় চৌধুরীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তারাপীঠের এই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর, তারাপীঠে ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার, ডেপুটি ম্য়াজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে, এই হোটেলগুলোতে নোটিস দেয় পুলিশ। নোটিস দেওয়া হয়েছে দত্ত ভবন নামে এই হোটেলেও...  কিন্তু, ফায়ার লাইসেন্স নেই কেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে মারাত্মক দাবি করছে হোটেল কর্তৃপক্ষ! তারাপীঠের আদর্শ লজ বন্ধেরও নোটিস দিয়েছে পুলিশ। যে হোটেলের মালিক বীরভূম জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য নিতাইচন্দ্র মাল। নোটিস পড়েছে, বীরভূম জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যর ভাইঝির হোটেল শৈলেন ভবনেও। হোটেল মালিক সরস্বতী রায়ের স্বামী, শৈলেন রায়, পেশায় রাজ্য় পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর। এই হোটেলে ফায়ার লাইসেন্স নেই! অভিযোগ, আগে একাধিকবার বলা হলেও কর্ণপাত করেনি কেউ। কিন্তু ৯জনের প্রাণ চলে যাওয়ার পর কেন এই তৎপরতা? আগে থেকেই যদি নিয়ম মেনে প্রশাসন ও হোটেল কর্তৃপক্ষ কাজ করত, তাহলে তো আর এতগুলো প্রাণ যেত না!

 

আরও পড়ুন: Subhasree on Dev: 'একসঙ্গে একই সময়ে সফরটা শুরু করেছিলাম..' দেশু7-শ্যুটিংয়ের শেষ দিনে দেবকে খোলা চিঠি শুভশ্রীর