কলকাতা : রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের বহু কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। নানা ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। আর এবার কলকাতায় ৭০ লক্ষ টাকার তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবাল। তিনি কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া একটি তোলাবাজির মামলায় তদন্তের ভিত্তিতেই গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শুধু তোলাবাজির অভিযোগই নয়, শামস ইকবালের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ধারাতেও মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ অনুযায়ী, এই শামস ইকবাল এবং তার সহযোগী মোহাম্মদ ফারাজ ও ফিরোজ কোরেশি ২০২৩ সালের জুন মাসে শাদাব নামে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ৭০ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য করেন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ রবিবার (২৮ জুন, ২০২৬) রাতে ইকবালকে আটক করে এবং দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারপর তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি লিখিত অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং আরও বেশ কিছু অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন একের পর এক কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল।
পানিহাটিতে গ্রেফতার কাউন্সিলর
অন্যদিকে, এদিনই পানিহাটিতে গ্রেফতার হলেন আরেক তৃণমূল কাউন্সিলর । তোলাবাজির মামলায় জালে তৃণমূল নেতা পানিহাটির তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্ত দাস ।
নদিয়ায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
আবার, নদিয়ায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি। ধৃত স্বপন ঘোষ কৃষ্ণনগর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। গতকাল দুপুরে ধুবুলিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, কালীনগর সমবায় সমিতিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্বপন ঘোষের বিরুদ্ধে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না মেলায় সম্প্রতি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তারপরই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হল।
