কলকাতা: 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এ ভাঙন অব্যাহত। এবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের। বিরোধী দলনেতার ঘরে আজ দেখা গেল বিশ্বজিৎ দাসকে। বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে তাঁকে আমার নেতা বলে সম্বোধন বিশ্বজিৎ দাসের। কিছুক্ষণ পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে আসতে পারেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পরেই বিরোধী দলনেতার ঘরে আসতে পারেন রাজারহাটের প্রাক্তন বিধায়ক।
আরও পড়ুন, বড় সতর্কতা, একটু পরেই শুরু হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বর্ষণ ? কী বলছে IMD
একে একে সবাই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ছায়া থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি, জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে দলের সাংগঠনিক পদে থাকা নেতাদের নাম জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তালিকার অধিকাংশ নামই এখন 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ। এই হল সেই তালিকা। তৃণমূলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি যে ৬ জন অফিস বেয়ারার পদে ছিলেন, তার মধ্য়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিম। এই ৩ জনই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ছায়া ত্য়াগ করেছেন। সেই সঙ্গে তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির যে ২৭ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্য়ে থেকেও বড় অংশই কালীঘাটের সঙ্গ ছেড়েছেন।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডল এখন 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ।সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, পার্থ ভৌমিকরা NCPI-তে মিশে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র হাত ধরার কথা ঘোষণা করেছেন। সুখেন্দুশেখের রায়, সুস্মিতা দেবরা তৃণমূলের রাজ্য়সভার সাংসদ পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আবার রাজ্য়সভাতেই প্রার্থী হয়েছেন। NCPI লোকসভার চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, আমরা বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করব। আমরা সরকারিভাবে ধরুন এই কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য়ের সরকার একই রাজনৈতিক দলের।
বিধানসভা ভোটে হারের পর দলের ভাঙনেও যাদের আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, তাদের একটা বড় অংশই বড় ধাক্কা দিয়েছে তাঁকে। ফিরহাদ হাকিমকে বিধানসভায় চিফ হুইপ করতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। যিনি 'ঋতব্রত তৃণমূলে' চলে গেছেন।মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মালা রায়কে। যুব সভানেত্রী করা হয় সায়নী ঘোষকে। তাঁরা দু'জনই দিল্লিতে গিয়ে NCPI-তে মিশে গেছেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভানেত্রীর আসনে বসিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনিও ঋতব্রত-শিবিরে যোগ দিয়েছেন। একাধিক জেলা সভাপতি ইস্তফা দিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মদন মিত্রের নামও।
