কলকাতা: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। 'সাধারণ মানুষ হিসেবেই শমীক ভট্টাচার্যের কাছে এসেছিলাম', শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দাবি সুখেন্দু শেখর রায়ের। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করার পরেই, এবিপি আনন্দ-কে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি।
আরওপড়ুন, ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকে-কে থাপ্পড় যুবকের
প্রশ্ন: প্রথমত কী কথা হল আপনাদের ?
সুখেন্দুশেখর রায় : আমি মূলত এসেছিলাম, ওর অসুস্থতার খবর পেয়ে, যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, বাড়ি ফিরেছেন। আমি মনে করলাম একবার তার সঙ্গে দেখা করি। ওর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের জানাশোনা। শমীক ভট্টাচার্য তো আমি যতদিন রাজ্যসভায় আমি যতদিন ছিলাম, আমার কলিগ ছিলেন। আলাদা দল করলেও, বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের আলোচনা হত। ..একজন অসুস্থ মানুষ বাড়ি ফিরেছে, দেখা করতে যাওয়াটা সৌজন্য নয় কি ? বাঙালি সমাজে, এই সৌজন্যের অভাব ঘটে গেছে প্রচণ্ড। এই সৌজন্যের অভাবটা আমাদেরকে পীড়া দেয়। প্রাচীন আমলের লোক, বুড়ো বটগাছ আরকি..
প্রশ্ন: অবশ্যই। কিন্তু মানুষ তো এটাও জানতে চায়, আপনার একজন মানুষ, সেকি রাজনীতি থেকে সরে গেল, নাকি রাজনীতিতে থাকবেন তিনি ?
সুখেন্দুশেখর রায় : না আমি এই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। আমি হঠাৎ করে কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই না। শমীককে ভাল লাগে, তার কারণ হচ্ছে, আমি দেখেছি, কারও প্রতি কোনও শত্রুতা, বিদ্বেষ কখনও প্রকাশ করে না। তার ভাষার মধ্যে যে শালীনতা, তার ভাষার মধ্যে যে রুচিবোধ, আজকে তো রাজনীতি থেকে সেটা হারিয়ে গিয়েছে। কীভাষায় এক একজন কথা বলছে ! চোখেমুখে শুধু হিংসা। হিংসাত্মক ছাড়া কোনও ভাষার প্রয়োগই নেই। যার জন্য আমার সঙ্গেও ভীষণ মনের মিল হয়। ভীষণ পছন্দ করি।
প্রশ্ন: এবার তাহলে প্রস্তাব ?
সুখেন্দুশেখর রায় : আমি আজকে রাজ্যসভার মেম্বার নই ঠিকই, কিন্তু ওরসঙ্গে তো বেশ কিছুদিন রাজ্যসভায় কাটিয়েছি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাব বিনিময় ওর সঙ্গে আমার হয়েছে। এরকম একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ , জাতীয় দলের এখানে রাজ্য সভাপতি, তার যে সম্মান, তো তার সম্মানকে অখুন্ন রেখে, সৌজন্য বোধ দেখাতে যদি যাই, অসুবিধা কোথায় ? একজন নাগরিক হিসেবে তো আমি এসেছি, এখানে। আমার তো কোনও পদ নেই। আমার কোনও দল নেই।
প্রশ্ন: আগামীদিনে আপনাকে রাজ্যসভা থেকে সাংসদে যদি দলের প্রতিনিধিত্ব করতে বলতে বলা হয় বিজেপির তরফ থেকে, আপনি গ্রহণ করবেন না প্রত্যাখ্যান করবেন ?
সুখেন্দুশেখর রায় : সেই পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় কখনও, আমি বিচার করব।
