কলকাতা : NIA-র হাতে অবশেষে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সওকত মোল্লা। এতদিন ধরে লুকোচুরি খেলেও হল না শেষরক্ষা। ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় পাকড়াও। সওকত মোল্লাকে ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূলচক্রী হিসেবে ঘোষণা করেছিল NIA, সেইসঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে 'পলাতক' হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এবার গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সওকত।

Continues below advertisement

পুরো ঘটনার নেপথ্যে সওকত মোল্লাই রয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান NIA-র। বৃহস্পতিবার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এমন বেশ কিছু ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। ভাঙড়ে লাল্টু নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ও বারুইপুর অঞ্চলের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়েছে NIA-র তরফে। সূত্রের খবর, তল্লাশির ১০ ঘণ্টা আগেও নাকি বারুইপুর ও জীবনতলা এলাকায় সওকত মোল্লাকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। এনিয়ে BSF-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে NIA। কোনওভাবেই যেন বাংলাদেশে পালাতে না পারে সওকত মোল্লা, সে ব্যাপারেও বিএসএফ-কে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লুকোচুরি আর কাজে এলো না। 

উল্লেখ্য, গতকাল ভোরে শওকতের বাড়িতে পৌঁছনোর পর এনআইএ আধিকারিকরা দেখতে পান তালা ঝুলছে। ৮ জুন যে কোনও ভাবে সওকত মোল্লাকে হাজিরা দিতেই হবে। সে নিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের পরিবারকে জানিয়েছে এনআইএ। বৃহস্পতিবার, পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও, সওকতের কোনও খোঁজ মেলেনি। বন্ধ তাঁর তিন তিনটে মোবাই ফোনও। নদীর ধারে সওকতের ছেলের আলিশান রেস্তোরাঁতেও NIA-র হানা। বাড়ির কাছে সওকতের কার্যালয়েও প্রাক্তন বিধায়কের খোঁজে NIA হানা দেয় বৃহস্পতিবার। গত মার্চ মাসে ভাঙড়ে বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়। সেই মামলার তদন্তে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে NIA। ভোটের আগে বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল, মজুত বোমার থেকে বিস্ফোরণ হয়, ধারণা NIA-র।

Continues below advertisement

প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে, বৃহস্পতিবার সওকত মোল্লার খোঁজে যখন দিনভর বিভিন্ন জায়গা হানা দিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি NIA, সেই তৃণমূল নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দখলদারির একাধিক অভিযোগ তুললেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সওকত মোল্লার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী এমনকী ভাইয়ের বিরুদ্ধেও দখলদারির ভুরি ভুরি অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জীবনতলার অভিযোগকারী এক বাসিন্দা বলেছেন, 'এটা সওকত মোল্লার ভাই আবু, তারা জোর করে সরকারি জায়গার উপরে হোটেল বানিয়েছে। নদীর চর এটা। সওকত, তাঁর বউ আরও সব বাহিনী আছে, জোর করে এই ফিসারি জায়গা, তারপর হাউস, সব দখল। পুলিশ আমাদের কথা শোনেনি। এবং থানার মধ্যে ঢুকতে দেয়নি সেই সময়।'