হিন্দোল দে, কলকাতা : শহরের জনবহুল এলাকায় জোড়া মৃত্যু ! ভয়াবহ ঘটনা। একেবারে দিনে দুপুরে জনবহল রাস্তার পাশে পার্লারে ঢুকে কুপিয়ে খুন ! হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল গড়িয়ার মহামায়াতলার বাসিন্দারা। এলাকার পরিচিত পার্লারে এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে । কেন মহিলাদের পার্লারে একজন পুরুষ ঢুকে হামলা চালাল, প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে , আততায়ীর সঙ্গে পার্লারের মালকিনের সঙ্গে সম্পর্ক বহুদিনের। অতীতের সেই সম্পর্কের জেরেই এই খুনোখুনি বলে মনে করা হচ্ছে। কারও কারও দাবি, মহিলাকে কুপিয়ে খুন করার পর অভিযুক্ত নিজের গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে দেন। তাতেই মৃত্যু।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই পার্লারটি চালাতেন রূপবানী দাস। তাঁকে এলাকায় অনেকেই পম্পা বলে চিনতেন। স্বামী অনুপ কুমার দাসের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন থেকেই ওই এলাকাতেই থাকতেন। তেঁতুলতলায় এই বিউটি পার্লারটিও ১৫ বছরের পুরনো। কিন্তু এভাবে সেখানেই রক্তারক্তি হবে ভাবতে পারছেন না কেউই।
ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা বার্তা ও পারিপার্শ্বিক ঘটনায় পুলিশের ধারণা, আততায়ীর সঙ্গে পূর্বে সম্পর্কে ছিলেন মহিলা। পরিবার সূত্রে খবর, বিয়ে হলেও কয়েকমাস আগে রূপবাণী দাস বাড়ি ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গে চলে যান। কিছুদিন আগে আচমকা তিনি ফিরে আসেন।অনুপ কুমার দে নামে মৃতার এক আত্মীয়রও দাবি, অতীত ওই মহিলা কোনওভাবে পালিয়ে চলে আসেন ছেলেটাকে ছেড়ে। তারপর থেকেই তক্কে তক্কে ছিল ছেলেটি। মঙ্গলবার বিউটি পার্লার খুলতেই একেবারে প্রাণঘাতী হামলা। 'ক্ষুর চালিয়ে স্পট ডেড করে দিয়েছে ওকে।', দাবি প্রত্যক্ষদর্শীর। জানা যাচ্ছে , আততায়ী এই রাজ্যের বাসিন্দা নয়। শুনেছি দিল্লি বা পাঞ্জাবের ছেলে।
প্রাথমিক ভাবে জানা হচ্ছে, আততায়ী যুবক আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে রূপবানীর কোনও সম্পর্ক হয়ে থাকতে পারত। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই সম্পর্ক নিয়েই কোনো জটিলতা বা টানাপোড়েন থেকে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানা। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হল পার্লারের মালিক রূপবাণী দাসকে! পার্লারের ঠিক বাইরেই রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখা যায় আততায়ীকে! পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রশ্ন উঠছে, খুনের পর কি আত্মহত্য়া করেন তিনি? তার উত্তর মিলতে পারে তদন্তে।
