কলকাতা: বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। এই আবহে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নামও ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় ফের সামনে এসেছে তৃণমূলকে নিয়ে আজ থেকে ১৩ বছর আগে করা সিপিএম নেতা গৌতম দেবের (Gautam Deb) ভবিষ্যদ্বাণী। এই অবস্থায় বর্ষীয়াণ সিপিএম (CPIM) নেতার দাবি, তৃণমূলের এই পরিণতি হবে তার আঁচ তাঁরা আগেই পেয়েছিলেন।

Continues below advertisement

বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে তৃণমূল। এই আবহে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নামও ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় ফের সামনে এসেছে তৃণমূলকে নিয়ে আজ থেকে ১৩ বছর আগে করা সিপিএম নেতা গৌতম দেবের ভবিষ্যদ্বাণী। এই অবস্থায় বর্ষীয়াণ সিপিএম নেতার দাবি, তৃণমূলের এই পরিণতি হবে তার আঁচ তাঁরা আগেই পেয়েছিলেন।

২০১৩ সাল! আজ থেকে ১৩ বছর আগের কথা! ৩৪ বছরের বামশাসনকে সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন সবেমাত্র ২ বছর হবে। এক কথায় তৃণমূলের তখন ভরা সংসার! আর সেই ১৩ বছর আগেই তৃণমূল দলটা একদিন উঠে যাবে বলে মন্তব্য করেছিলেন বাম জমানার মন্ত্রী এবং বর্ষীয়াণ সিপিএম নেতা গৌতম দেব। 

Continues below advertisement

২০২৬-র বিধানসভা ভোটের পর, তৃণমূল যখন রাজ্যপাট হারিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর হাতে তৈরি দল ভেঙে টুকরো হয়ে গিয়েছে, বিদ্রোহের জেরে দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকও যখন ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, তখন ফের চর্চায় গৌতম দেবের সেই ১৩ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী। 

২০১৩ সালের ২১ জুন সুমন দে-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে যে দাবি করেছিলেন সিপিএম নেতা। সমাজমাধ্যমেও ফের তা ভাইরাল রয়েছে। সেইসময় গৌতম দেবকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমি বলছি মমতা বন্দোপাধ্যায়কে আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ। ও ভিন্ন পর্যায়ের মিথ্যেবাদী। একজন মুখ্যমন্ত্রী এত মিথ্যেবাদী হলে রাজ্য কী করে চালাবে? না তিনি রাজ্য চালাতে সক্ষম, না পার্টি চালানোর যোগ্য। পার্টি ধ্বংস হবে, তার সমস্ত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ওই পার্টি ভাগ হবে।’

আরও পড়ুন:- নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে মনোনয়ন তুলে নিতে চাপ দিয়েছিল পুলিশ! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ 

তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় এক যুগ, গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেস। এমন পরিস্থিতিতে অতীতে তাঁর করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গৌতম দেবকে বলতে শোনা গেল, ‘তৃণমূলের বারোয়ানা লোক বুঝে গেছে টিকে থাকলে একটা অসম্ভব জিনিস হয়ে যেত। এর পরেও যদি জিতত! একটা ক্লাব চালানো যায় না... আমি সোজাসুজি বলছি, যেভাবে ক্লাবের নেতারা মাতব্বরি করলে একটা ক্লাব চলে না, দুর্গাপুজো কমিটি ভেঙে যাবে....দুর্গাপুজোর পয়সাকড়ি যদি... ডিল করতে চায়, ভেঙে যাবে। আমাদের ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের অভিজ্ঞতা আছে, পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতা তো আছেই...., দেখলাম তো আমরা মমতা ব্যানার্জিকে। অজিত পাঁজা রিটায়ারমেন্ট করল, অজিত পাঁজাকে দেওয়া হল। তারপরে অজিত পাঁজা চলে গেল.... টালিগঞ্জের যে MLA ছিলেন পঙ্কজ মল্লিক....পঙ্কজবাবু, তাঁকে চেয়ারম্যান করল, সে চলে গেল। আবার নতুন চেয়ারম্যান করল। এই শুধু হাতের কাজ করলে লোকজন তো বুঝে যায়।’

১৩ বছর আগে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলেছিলেন, তা কার্যত অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে! কিন্তু আজ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেতে হচ্ছে, তাতে আগামীতে তাঁর ভবিষ্যৎ কী? ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উঠে দাঁড়ানোর প্রশ্নই নেই। ওর দল থাকবে না। মমতা যে জায়গায় ছিল, সেই জায়গায় ফিরে যাওয়া নেকস্ট টু ইমপসিবল। ইমপসিবলের পরে যদি কিছু থাকে সেই অবস্থায় দাঁড় করানো হয়েছে মমতা ব্যানার্জিকে।’ দাবি বর্ষীয়াণ সিপিএম নেতার।

পাল্টা মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি,  ‘গৌতম দেব আপনি এত জানলে ৩৪ বছর থাকার পর শূন্য হলেন কেন? তার তো একটা হিসেব, কৈফিয়ত দেবেন আপনারা। আমরা ১৫ বছর পর বিজেপির চক্রান্ত, নির্বাচন কমিশন সব মিলিয়ে  ধাক্কা খেয়েছি, কিন্তু শূন্য হয়নি। আমাদের গুচ্ছ বিধায়ক রয়েছে। মমতাদির প্রতীকে জেতা ৮০ জন বিধায়ক রয়েছে।’

একটা সময়, আলিমুদ্দিনে বসে তৃণমূলকে লাগাতার আক্রমণ করতেন গৌতম দেব। তৃণমূল নিয়ে এদিন তাঁর মুখে শোনা গেল আবার এক ভবিষ্যদ্বাণী।