সোনার খনিতে ভয়াবহ ধস। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অন্তত ১৪ জনের। আহত হয়েছেন আরও সাতজন। সোমবার দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ার নারিনো অঞ্চলের ঘটনা। সূত্রের খবর, এই খনিটি ছিল অবৈধ।  স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ধসের পর নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি শুরু হয়। তবে জায়গাটি এতটাই দুর্গম যে দেহ উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হয়। ইকুয়েডরের সীমান্তবর্তী নারিনো অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবৈধ খননকার্য চলে আসছে বলে অভিযোগ।  শুধু অবৈধ সোনার খনি নয়,  সোনার অবৈধ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচার এবং তোলাবাজির মতো অপরাধমূলক কাজও চলে। এলাকাটি যথেষ্ট দুর্ঘটনাপ্রবণ । তবে এমন কাজ করা ছাড়া নাকি এলাকার মানুষদের কোনও গতিও নেই। এতবড় দুর্ঘটনা সাম্প্রতিককালে ঘটেনিনি।

Continues below advertisement

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, দুর্ঘটনাস্থল অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।  তার উপর এলাকাটি  অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, খনি থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয়রা। একটি ব্যাকহোর সাহায্যে দেহগুলি উদ্ধার করে কাছের নদীতে থাকা একটি ডিঙি নৌকায় তোলা হচ্ছে বলে ভিডিওয় দেখা গিয়েছে। অভিযোগ, নারিনো অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ সোনার ব্যবসার চলছে। সেই সঙ্গে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। প্রশাসনের এক সূত্রের বক্তব্য, স্থানীয় মানুষের সামনে বিকল্প জীবিকার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই সব কাজ করে।  স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কলম্বিয়ায় খনিতে দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাবিধির বাইরে থাকা খনিগুলিতে বিপদের আশঙ্কা বেশি। 

এমন দুর্ঘটনা ঘটায় অনিয়ন্ত্রিত খননকার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসন কেন পদক্ষেপ করছে না , তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারি নজরদারি, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সোনার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা থাকলেও তার জোগানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি খননকাজ যে নিরাপদ বা বৈধ পথে পরিচালিত হয়, তা নয়। নারিনোর মতো অঞ্চলে অবৈধ খনন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব এবং জীবিকার সীমিত সুযোগ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে খনি শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।চোরাকারবার ও অবৈধ খনন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দুর্ঘটনা রুখতে নিরাপত্তাবিধি কার্যকর করা, খনি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়দের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি। না হলে সোনা তোলার আশায় খনিতে নামা মানুষের কাছে প্রতিটি কর্মদিবসই হয়ে উঠতে পারে প্রাণের ঝুঁকি। কলম্বিয়ার নারিনো প্রদেশের এই দুর্ঘটনা আরও একবার দেখিয়ে দিল, অবৈধ খনন শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের জীবন, নিরাপত্তা এবং জীবিকার প্রশ্নও।

Continues below advertisement