কলকাতা: আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির ঘটনা ঘিরে সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। এবার ইডির বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। পাল্টা ইডির তরফে বিবৃতিতে দাবি, মমতা বন্দোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণগুলি নিয়ে গেছেন। এই আবহে এবার মুখ খুললেন রাজ্যপাল। 

Continues below advertisement

এদিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেন, 'ইডি-র আইপ্যাক অভিযান সংঘাতের বিষয়ে সাধারণ মানুষ আমার দ্বারস্থ হয়েছেন। আইনজীবীরাও এ-বিষয়ে আমার কাছে নানান অভিযোগ জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা তিনটি আইনি বিষয় তুলে ধরেছেন। প্রথমত, কোনও সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়াটা ফৌজদারি অপরাধ। দ্বিতীয়ত, সরকারি কর্মচারীকে কাজ করার সময় হুমকি দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। এক্ষেত্রে ২ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা ২ টিই হতে পারে। তৃতীয়ত, সাংবিধানিক পদাধিকারীদের কাজ সংবিধানকে রক্ষা করা। তিনি যদি সংবিধানকেই অস্বীকার করেন, তাহলে তাঁর সেই পদে থাকার অধিকার নেই। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছি। রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে সঠিক পদক্ষেপ নেব', ইডি-মুখ্যমন্ত্রী সংঘাত নিয়ে মন্তব্য রাজ্যপালের। 

এদিকে, আইপ্যাক অভিযানে ধুন্ধুমার নিয়ে এবার CBI তদন্তের দাবি জানাল খোদ ED। হাইকোর্টে ED-র করা পিটিশনে পার্টি করা হয়েছে রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী, DC সাউথ, পুলিশ কমিশনার, DG ও CBI-কে। গোটা ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক, দাবি ED-র। 'জোর করে, অবৈধভাবে যে জিনিসগুলি মুখ্যমন্ত্রী তুলে এনেছেন, সেগুলি ED-র হাতে তুলে দেওয়া হোক। ED-কে যেভাবে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে ঘোষণা করা হোক'। ঘটনার CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করা হোক, হাইকোর্টে দাবি ED-র। 

Continues below advertisement

অন্যদিকে, আই প্যাকের কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির ঘটনা ঘিরে সংঘাত তুঙ্গে। তল্লাশিকাণ্ডে তুলকালামের পর জোড়া FIR মুখ্যমন্ত্রীর। এবার ED ও CRPF-এর অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের হয়েছে অভিযোগ। শেক্সপিয়র সরণি থানার অ্য়াডিশনাল অফিসার ইনচার্জ শিবাদিত্য পালকে IO হিসেবে নিয়োগ, খবর সূত্রের। পুলিশসূত্রে খবর, শেক্সপিয়র সরণি থানায় জোড়া অভিযোগ দায়ের। বিধাননগর কমিশনারেটের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানাতেও একটি অভিযোগ দায়ের।