কলকাতা : SIR-হয়রানির অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় নির্বাচন সদনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে মমতা-অভিষেক। এসআইআর আতঙ্কে মৃতদের পরিবার ও মৃত বিএলও-দের পরিবারকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের আগে সকাল থেকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে নজিরবিহীন সংঘাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। সকাল থেকে দিল্লিতে বঙ্গভবনের সামনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা পুলিশের। বঙ্গ ভবন ঘিরে রেখেছে পুলিশ, অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 'বঙ্গ ভবনে দিল্লি পুলিশের তল্লাশি, এটা ওরা করতে পারে না। অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে এলে লাল কার্পেট, আমাদের বেলায় ব্ল্যাক কার্পেট?', কেউ না লড়লেও, আমি লড়ব হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর।
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের আগে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। বঙ্গভবনে ছুটে গেলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুললেন। আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে! কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন,এরা হচ্ছে স্বৈরাচারী। ব্য়াভিচারী। দুরাচারী। দুষ্টাচারী। আমি আপনাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলাম। দেখুন ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে। দেখুন এদিকে দাঁড়িয়ে আছে চোরের মতো। আর সকালে গিয়ে ঘরে ঘরে সার্চ করে দেখে এসেছে। যখন তাদের পরিবার মারা গেছিল, কেউ পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন?মুখ্যমন্ত্রী ও জ্ঞানেশ কুমারের বৈঠকের প্রায় ৪-৫ দিন আগেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছিলেন এরাজ্যে SIR পর্বে মৃতদের পরিজনদের একাংশ। খসড়া তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে এমনও বেশ কয়েকজনকে দিল্লিতে নিয়ে গেছে তৃণমূল। প্রায় ১০০টি পরিবারকে রাখা হয়েছে চাণক্যপুরীর নিউ বঙ্গভবন ও হ্যালি রোডের ওল্ড বঙ্গ ভবনে।সোমবার সকাল থেকে সেখানে আচমকা পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে বঙ্গ ভবনে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন,এই দেখো এখন নমস্কার করার সময় নয়, মানুষ দুঃখে আছে। বাড়িতে পরার শাড়ি পরে বেরিয়ে এসেছি আমি যেই শুনেছি। আমাকে অত দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই।
দিল্লি পুলিশের সঙ্গে কার্যত সম্মুখ সমর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, বাস ভর্তি করে নিয়ে এসেছে দেখুন। পুলিশকে দেখান, আমাকে না দেখিয়ে আপনারা পুলিশকে দেখান। ক্যামেরা ওদিকে ঘোরান। কোনও নিরাপত্তা দিচ্ছে না। এটা কোনও পদ্ধতি হল? যখন দিল্লিতে বিস্ফোরণ হয় তখন দিল্লি পুলিশ কোথায় থাকে? আমি দিল্লি পুলিশকে দোষ দেব না। আমি দোষ দেব তাঁকে যে মাথায় আছে। চরম অপদার্থতা। দিল্লি ভয় পেয়ে গেছে। আমি এলেই ভয় পেয়ে যায়।'
