হিমাচলপ্রদেশ : সকাল সকাল কেঁপে উঠল মাটি। আতঙ্কে ছোটাছুটি। ঘুম ভাঙল ভূমিকম্পের আতঙ্কে। শনিবার ভোরে (১৭ই অক্টোবর) হিমাচল প্রদেশে একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভোর ৪:৩৬ মিনিটে নাগাদ কেঁপে ওঠে মাটি। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৪.১। তবে, কোনো হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (এনসিএস) এর দেওয়া তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল শিমলা। ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার নিচে ছিল কম্পনের উৎস। কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। আকস্মিক এই ভূকম্পনের ফলে আতঙ্ক ছড়ায়। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে।
কম্পন কমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরে ফিরে আসে। পাঁচ দিন আগেও হিমাচল প্রদেশে একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। এভাবে বারবার ছোট ছোট ভূমিকম্প আতঙ্ক ধরিয়েছে। তাহলে কি কোনও বড় ভূমিকম্প আসন্ন ?
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-এর মতে, আগের ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে। হিমাচলপ্রদেশের চাম্বায় ভূমিকম্পটি মূলত আঘাত হানে। হিমাচল প্রদেশের চাম্বায় হালফিলে স্বল্প-তীব্রতার আরও একটি ভূমিকম্প হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশ হিমালয় পর্বতের কোলে অবস্থিত। এই অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় । হিমাচলে ছোট-বড় ভূমিকম্প হতেই থাকে। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক সংঘর্ষের ফলে এমন কম্পন অনুভূত হয়। ভারতীয় প্লেট ক্রমাগত উত্তর দিকে এগিয়ে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। এই চলাচলের ফলে ভূত্বকের বিভিন্ন অংশে চাপ জমতে থাকে। শিলাস্তরের দুর্বল অংশ বা ফল্ট বরাবর সেই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলেই ভূমিকম্প হয়। হিমালয়ের গঠনের সঙ্গে যুক্ত এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এখনও চলছে। হিমাচল প্রদেশের মধ্যে একাধিক সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি বা ফল্ট রয়েছে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সময়ে সময়ে কম্পন অনুভূত হয়।
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা অনুসারে, ভূমিকম্পের অভিঘাত মাপা হয়। ভূমিকম্পের শক্তি বোঝাতে সাধারণভাবে রিখটার স্কেলের মাত্রা দেখা হয়। ব্যবহার করা হয়। ভূমিকম্পকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। ৩-এর হলে অতি ক্ষুদ্র কম্পন। অনেক সময় মানুষ এই কম্পন অনুভবই করতে পারেন না। সংবেদনশীল যন্ত্রে তা ধরা পড়ে। ভূমিকম্পের মাত্রা ৩.০–৩.৯ হলে ক্ষুদ্র ভূমিকম্প। কাছাকাছি এলাকায় হালকা ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে। সাধারণত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয় না। কম্পনের মাত্রা ৪.০–৪.৯ হলে হালকা ভূমিকম্প। বাড়ির ভিতরে থাকা মানুষ কম্পন টের পেতে পারেন। জানালা, দরজা বা ঝুলন্ত জিনিস নড়ে উঠতে পারে।৫.০–৫.৯ হলে মাঝারি ভূমিকম্প। দুর্বল নির্মাণের বাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এরপর ৬.০–৬.৯ মাত্রা। এগুলি শক্তিশালী ভূমিকম্প। উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ৭.০–৭.৯ মাত্রা ভূমিকম্প রীতিমতো বড় আঘাত হানতে পারে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। ৮.০ বা তার বেশি মাত্রার কম্পন অতি বড় ভূমিকম্প।
