সত্যজিৎ বৈদ্য, বাগুইআটি: এসএসসি(SSC) দুর্নীতিকাণ্ডে (Scam) বাগুইআটির (Baguiati) দীপঙ্কর হীরার বাড়িতে তল্লাশি। সুব্রত মালাকারের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) নজরে আরও এক জন। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি করেছেন তিনি।
কী হচ্ছে?এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ ইডি-র ৬ থেকে ৭ জন আধিকারিক পৌঁছে যান দীপঙ্কর হীরার বাড়ি। তার পর থেকে টানা ঘণ্টাসাতেকেরও বেশি তল্লাশি চলছে। তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা লেনদনের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন দীপঙ্কর। সেই সূত্রেও তল্লাশি চলছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এলাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না তিনি। তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে যে ভাবে তাঁর সম্পত্তি ফুলে-ফেঁপে ওঠে তাতে এলাকাবাসীর বড় অংশের ধারণা দীপঙ্করের বাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পাওয়া যেতে পারে। টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আপাতত সেই সূত্রেই বাগুইআটির জগৎপুর বাজার এলাকায় দীপঙ্করের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।
আটক এক মিডলম্যান...ঘটনাচক্রে এদিনই এসএসসি দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে আটক আরও এক মিডলম্যান। সোদপুরের ঘোলা, কেষ্টপুর-সহ সোমবার ৪ জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। ঘোলার নিরঞ্জন পল্লি থেকে আটক করা হয় মিডলম্যান সুব্রত মালাকারকে। ইডি সূত্রে দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করেননি সুব্রত। ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই মিডলম্যানকে আটক করা হয়। ইডি সূত্রে দাবি, প্রসন্ন রায়, প্রদীপ সিং ছাড়াও নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত আরও কয়েকজন মিডলম্যানের হদিশ মিলেছে। সেই সূত্রেই তল্লাশি। প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগে এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত মিডলম্যান প্রসন্ন রায়কে আটক করে সিবিআই। আরও সম্পত্তির হদিস পেল সিবিআই। এর আগেও তাঁর বহু সম্পত্তির হদিস পেয়েছে সিবিআই। সূত্রের দাবি, মহিষবাথানের বিলাসবহুল আবাসন মার্লিন অ্যাভিনিউয়ের টাওয়ার ফাইভে থ্রিএ ফ্ল্যাটের মালিক প্রসন্নকুমার রায়। এদিন দুপুরে, এই আবাসনে আসেন সিবিআইয়ের ৪ অফিসার। সম্প্রতি প্রায় দেড় ঘণ্টা ফ্ল্যাটের বাইরে অপেক্ষা করতে হয় CBI’এর ৪ গোয়েন্দাদের। পরে, আবাসনের অফিস থেকে মাস্টার-কি এনে ফ্ল্যাটে ঢোকেন তাঁরা। সূত্রের দাবি, ২০১৭ সালে এই ফ্ল্যাটটি কেনেন প্রসন্নকুমার রায় । প্রায় দেড় ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যান সিবিআই আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন:'৮৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হতে চলেছে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের