আবির দত্ত, কোন্নগর, হুগলি : গত ৩০ জুলাই হুগলির কোন্নগরে খুন হল তৃণমূল নেতা। এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বারাসাত-বেলঘড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, সুপারি দিয়ে এদের ভাড়া করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতাকে খুনের পিছনে মূল কারণ ব্যবসায়িক শত্রুতা বলেই প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করছে পুলিশ। তবে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যকে কুপিয়ে খুনের পিছনে আর কোনও কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে চারজন তাদের জালে পাকড়াও হয়েছে, তাদের মধ্যে দু'জন সরাসরি ভাবে এই খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। বাকিদের ধৃতদের মধ্যে একজনের পরিবারের এক ব্যক্তির 'ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড' রয়েছে বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মনে করছে, আগে থেকে পরিকল্পনা করে, এলাকা রেইকি করে, সুপারি দিয়ে, সময় নির্ধারিত করে, একদম পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে। যে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে সেখানে দেখা গিয়েছে খুনের আগের এবং পরের মুহূর্ত। কোন্নগরের তৃণমূল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। অন্যদিকে দেখা গিয়েছে, পিছনে ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক ব্যক্তি। খুনের পর দৌড়ে পালায় সকলে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন অর্থাৎ ৩০ জুলাই বুধবার দুপুর থেকেই অভিযুক্তরা সম্ভবত ছিল এলাকায়। সম্ভাবনা এও রয়েছে যে আগের দিনও এলাকায় ছিল তারা। সবটা রেইকি করে দেখছিল যাতে পরিকল্পনা সফল করা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়িক শত্রুতা থেকেই তৃণমূল নেতাকে খুনের সুপারি দেওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়া অনেকেই সরাসরি যুক্ত রয়েছে এই খুনের ঘটনায়। আর কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে যুক্ত, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা আধিকারিকরা।
কোন্নগরে নিজের গ্যাসের অফিসের সামনে কুপিয়ে খুন করা হয় কানাইপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য পিন্টু চক্রবর্তী ওরফে মুন্নাকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে কোন্নগরের ওই তৃণমূল নেতার সঙ্গে জমি নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছিল। আর তার জেরেই রীতিমতো পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। রেইকি করে তৈরি হয়েছিল খুনের ব্লুপ্রিন্ট। তৃণমূল নেতা কখন বেরোন, কোন রাস্তা ফাঁকা থাকে সবদিকেই নজর রাখা হয়েছিল। আগে থেকে পরিকল্পনা করেই খুন করা হয় কোন্নগরের তৃণমূল নেতাকে। চলতি মাসে ৫ জেলায় তৃণমূলের ৭ জন নেতা, কর্মী খুন হয়েছেন।