সোমনাথ দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর : স্কুল আছে। আছে ব্ল্যাক বোর্ড। আছে পড়ুয়া। কিন্তু নেই শিক্ষক। সরস্বতী পুজোর পরেই হয়ত বন্ধ হয়ে যাবে  স্কুল। কিছুদিন আগেই অবসর নিয়েছেন স্কুলের একমাত্র শিক্ষিক। এই পরিস্থিতিতে কী হবে  স্কুল পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, জানেন না কেউই।  দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা। হয়ত এটাই শেষ বছর....এই হতাশা নিয়েই শিক্ষকহীন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা করল বাণীবন্দনা। পুজোয় পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের মানুষরাই। 

দ্রুত স্কুলে একজন শিক্ষক নিয়োগ হোক, দাবি অভিভাবক থেকে গ্রামবাসীদের। আগামী অনিশ্চিত, তবু  হল  বিদ্যা দেবীর আরাধনা । হল হাতে খড়ি।  পড়ুয়াদের একটাই আশঙ্কা,  পুজোর পর সেই স্কুলে হয়ত বন্ধ হয়ে যাবে পঠনপাঠন। 

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের নিশ্চিন্তপুর শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা প্রায় ২৫ জন । এই স্কুলে পড়ুয়ারা তো মিড ডে মিল পানই, সেই সঙ্গে মিড ডে মিল পান ১০-১২ জন প্রসূতি। গ্রামের মানুষের দাবিকে মান্যতা দিয়ে২০০০ সালে একজন শিক্ষক ও একজন সহায়িকা দিয়ে এই স্কুলটি শুরু হয়। দু বছর আগে সহায়িকা অবসর নেন। বর্তমানে স্কুলের একমাত্র শিক্ষক তরুণ পাল কয়েকদিন আগেই অবসর নিয়েছেন। তাঁর অবসরে বর্তমানে শিক্ষকহীন স্কুল। বন্ধ পঠনপাঠন ।  মিডডে মিলও আর হয় না। স্কুলে আসেন না রাঁধুনিরা। তাঁরাও অনিশ্চয়তায়। 

তবে এত হতাশার মধ্যেও স্কুলের সরস্বতী পুজোটা বন্ধ হতে দেননি গ্রামের মানুষ।  তবে আগামীর কথা মনে করে সকলেরই মুখভার। এদিন স্কুলে  উপস্থিত ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তরুণ পালও।  স্কুলের সমস্ত পরিকাঠামো থাকলেও নেই শিক্ষক, তাই সরস্বতী পুজোর পরেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে স্কুলটি।  স্কুলের ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কি হবে? এই ছাত্ররা যাবে কোথায়, উত্তর নেই কারো কাছে।

এই গ্রাম থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে অন্যান্য স্কুল। তাই ছোট্ট স্কুল পড়ুয়াদের অভিভাবকরা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়। সকলেই চাইছেন এই স্কুলে দ্রুত সহিত শিক্ষক নিয়োগ করা হোক।  স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে তাতে সমস্যায় পড়বে প্রত্যন্ত  গ্রামের খুদে পড়ুয়ারা।

চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের বিডিও কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাসকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন,  ' শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব নয়,সম্ভবত ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যত্র পাঠাতে হবে।' এখন দেখার  শেষমেশ এই স্কুলের ভবিষ্যৎ কি হয়।