সোমনাথ মিত্র, মগরা (হুগলি) : সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে একের পর এক ঘটনায় বিতর্কে নাম জড়িয়েছে একাধিক সিভিক ভলান্টিয়ারের। এবার সেই সিভিক ভলান্টিয়ারের তৎপরতায় গঙ্গায় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেল এক কিশোর ! সোমবার দুপুরে এক কিশোর গঙ্গায় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায় সিভিক ভলান্টিয়ার ও স্থানীয় এক যুবকের তৎপরতায়। মগরা থানার অন্তর্গত বাঁশবেড়িয়া মিল ফাঁড়ির অধীন শিবপুর রাজার ঘাটের ঘটনা।
কী ঘটনা ?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ দুপুর ১টা নাগাদ বাঁশবেড়িয়া শিবপুর রাজার ঘাটে কয়েকজন বন্ধু মিলে গঙ্গায় স্নান করছিল। তাদের মধ্যেই থাকা কিশোর তথা ১৫ বছর বয়সী স্থানীয় অভয় সাউ জলের স্রোতে ভেসে যেতে থাকে। ঘটনাটি নজরে পড়ে নদীতটে কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার পার্থ বিশ্বাসের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আনেন বিষয়টি এবং গঙ্গায় নামেন। সেই সাথে পার্থর ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় এক যুবক মহম্মদ সামির নদীতে নেমে সাঁতরে অভয়কে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসেন। এরপর সিভিক ভলান্টিয়ার তাকে সুস্থ করার চেষ্টা শুরু করেন। প্রথমে তাকে উপুড় করে শুইয়ে পেটে চাপ দিয়ে মুখ থেকে জল বের করেন। কিছু পরিমাণ জল বেরিয়ে যাওয়ার পর কিশোরকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। পরে তাকে বাঁশবেড়িয়া ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক সুজিত রায় পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলেটির মা কবিতা সাহু ফাঁড়িতে পৌঁছান। পরিবারের হাতে কিশোরকে তুলে দেওয়া হয়।
কবিতা সাহু জানান, ছেলে বেলা ১১টা নাগাদ পড়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। অনেকক্ষণ বাড়ি ফেরেনি। খোঁজাখুজি করছিলেন তিনি। তখনই ফাঁড়ি থেকে ফোন যায় তাঁর কাছে। তাঁকে বলা হয়, “আপনার ছেলে এখানে আছে।” তিনি বলেন, "এসে শুনলাম গঙ্গায় নেমেছিল স্নান করতে। সিভিক ভলান্টিয়ার ডোবা থেকে বাঁচিয়েছেন।"
হুগলf জেলা গ্ৰামীণ পুলিশের ডিএসপি (ক্রাইম) অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র বলেন, "সিভিক ভলান্টিয়ার ও স্থানীয় যুবক মহম্মদ সামির ওই কিশোরকে নদী থেকে উদ্ধার করেন। জল থেকে তোলার পর ছেলেটিকে সিপিআর দেন পার্থ এবং তাকে সুস্থ করে তোলে। বর্তমানে ছেলেটি সুস্থ আছে। তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া গেছে।".