সুনীত হালদার, হাওড়া: সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। হাওড়ায় (Howrah) শহর জুড়ে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। গতকাল সন্ধ্যের পর থেকে ঝড়ো হওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। শুক্রবার ভোর থেকে দফায় দফায় প্রবল বৃষ্টির জেরে হাওড়া শহর এলাকার রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পুরোপুরি। বিশেষত নীচু যেসব এলাকা আছে সেখানে কোথাও গোড়ালি সমান আবার কোথাও হাঁটু সময় জল দাঁড়িয়ে যায়। রাস্তাঘাট জল থৈ থৈ করছে। বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। টিকিয়াপাড়া, সালকিয়া, ঘুসুড়ি, বেলগাছিয়া ও শিবপুর এলাকার বেশ কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সমস্যায় পড়েন অফিস যাত্রীরা। হাওড়া পুরসভার দায়িত্বে থাকা রাজ্যের নগর উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানান রাস্তায় জল জমে আছে। তারা পাম্প চালিয়ে জল দ্রুত নামানোর চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, কেএমডিএ র পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ জারি হয়েছে। দু একদিনের মধ্যে শুরু হবে খাল সংস্কারের কাজ। যাতে জমে থাকা জল দ্রুত নেমে যায়।
ইতিমধ্য়েই IMD-র তরফে জানানো হয়েছে যে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তার জন্য তুমুল তৎপর কলকাতা পুরসভায়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। ভোর থেকে চলছে মনিটারিং। আবহাওয়া দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালাচ্ছে কলকাতা পুরসভা ( KMC ) । কলকাতার একাধিক রাস্তায় স্ট্যান্ড বাই মোডে রাখা হয়েছে সাকশন মেশিন। বেশি জল জমলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পাম্পের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আপাতত গোটা বিষয়টাই মনিটরিং করছেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-এর একাধিক অংশে জল জমে আছে। আমহার্স্ট স্ট্রিটে জল দাঁড়িয়েছে। জল জমেছে মানিকতলা, পাতিপুকুরের আন্ডার পাসেও। জল জমেছে দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত জনজীবন স্বাভাবিক করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বৃষ্টির জন্য় উত্তরবঙ্গেও বিপর্যস্ত জনজীবন। তুমুল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের সমতল ও পাহাড়। রাতভর বৃষ্টিতে ফুঁসছে বালাসন নদী। কার্শিয়ঙের দুধিয়ায় ভাঙল অস্থায়ী সেতু। সেতু ভেঙে পড়ায় আপাতত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিকের। কার্শিয়াঙের মাহানতির কাছে, ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে রাস্তায় নেমেছে ধস। এ বাদেও পাহাড়ের একাধিক ছোট-বড় ধস নেমেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়িতে রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। বিক্ষিপ্তভাবে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং কালিম্পং আলিপুরদুয়ার কোচবিহার জলপাইগুড়িতে।
