সুনীত হালদার, হাওড়া : হাওড়ার বাগনানে দুর্ঘটনায় (Accident) মৃত্যু হল ২ জনের। আহত আরও ২ জন। গতকাল রাত ১১টা নাগাদ ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে (National Highway) বাগনান আমতা রোড মোড়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
কীভাবে দুর্ঘটনা
একটি গাড়িতে ৫ জন পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur) কাঁথিতে ফিরছিলেন। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ানে কাজ করেন তাঁরা। দুর্গাপুজোর জন্য প্যান্ডেল প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক করার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে দাবি, গাড়িটিকে পিছন থেকে একটি লরি ধাক্কা মারে। এর জেরে গাড়িটি উল্টোদিকের লেনে ছিটকে যায়। ধাক্কার অভিঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটিতে আটকে পড়েন সকলেই। সেই সময় উল্টোদিক থেকে আসা একটি লরি গাড়িটিকে ধাক্কা মারে। ঘাতক লরিটি পুলিশ আটক করলেও চালক পলাতক।
কাজ সেরে ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
যে ঘটনার খোঁজ পেয়েই সেখানে ছুটে যায় বাগনান থানার পুলিশ (Bagnan Police Station)। গাড়ির চারজন আহতকে প্রথমে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে তাঁদের নিয়ে ছোটা হয় উলুবেড়িয়া হাসপাতালে। সেখানেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আর একজনকে কলকাতার হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয় তাঁরও। মৃত দু'জনের নাম সঞ্জীব গুছাইত ( ৩১ ) ও রাজিব গুছাইত ( ৩২ )। তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি কেশরকুন্দা গড়গড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। আহত বাকি দু'জনের চিকিৎসা চলছে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডেও
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ সরকারি একটি বাস ঢোকে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে। যাত্রী নামিয়ে ওই গাড়ির চালক গাড়িটাকে দাঁড় করিয়ে শৌচাগারে চলে যান। তারপরে কন্ডাক্টর গাড়ির বনেট খুলে মালপত্র বের করার চেষ্টা করে। তখনই গাড়ির হ্যান্ডব্রেক না মেরে রাখায় ওই মুহূর্তে গাড়ি নিউট্রাল হয়ে যায়। পিছন দিকে গড়াতে শুরু করে গাড়ির চাকা। সকালের ব্যস্ত সময়ে বাসস্ট্যান্ডে ছিলেন অনেকেই। ছিল আরও বেশ কয়েকটা বাসও। ওই সরকারি বাসের পিছন দিয়ে বাবা ও ছেলে যাচ্ছিলেন। সরকারি বাসটি পিছনোর সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই উল্টো দিকে আরও একটি বাসের মাঝে পড়ে যান তাঁরা। ঘটনাস্থলে বৃদ্ধ বাবা ও ৪০ বছরের ছেলে রাজনারায়ণ সামন্ত দুজনেই পিষ্ট হয়ে যায়।
আরও পড়ুন- কোন পুজো দেখবেন? কী খাবেন? চিন্তা কমিয়ে প্যাকেজ নিয়ে হাজির পরিবহণ দফতর