সুনীত হালদার, হাওড়া: পুলিশ রোগী সেজে গ্রেফতার করল এক ভুয়ো চিকিৎসককে। বুধবার আমতা চন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে ইন্দ্রনীল বোস নামে এক  চিকিৎসকে গ্রেফতার করে। যদিও পুলিশের ধারণা এই চিকিৎসক তার আসল নাম ও পরিচয় গোপন করছে।                            

চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে আমতা চন্দ্রপুর ফাঁড়িতে কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালের  এক চিকিৎসক অভিযোগ দায়ের করেন যে তার নাম এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে কোন এক ব্যক্তি আমতা ছোটপোল এলাকায় একটি ওষুধের দোকানে ডাক্তারি করছে।                                          

অভিযোগ পেয়ে চন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিশ তদন্তে নামে। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সংশ্লিষ্ট বিভাগে যাচাই করা হয়। দেখা যায় যে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে যে ব্যক্তি আমতায় চিকিৎসা করছেন তার সঙ্গে আসল চিকিৎসকের কোন মিল নেই। 

পরে পুলিশ ওই চিকিৎসকের খোঁজ করতে থাকে। বুধবার পুলিশ সাদা পোশাকে বসিরহাটের একটি ক্লিনিকে পৌঁছয়। সেখানে চিকিৎসককে দেখাবেন বলে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার রোগী হিসাবে চেম্বারে নাম লেখান।  তৃতীয় জনের পর নাম ডাকা হয় পুলিশ অফিসারের। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার নিজের পরিচয় দিতেই থতমত খেয়ে যায় ওই ভুয়ো চিকিৎসক। তারপর ওই চিকিৎসককে গ্রেফতার করে আমতা চন্দ্রপুর ফাঁড়িতে নিয়ে আসে।                                              

বৃহস্পতিবার তাকে উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হবে। ওই ভুয়ো চিকিৎসক নিজের নাম ইন্দ্রনীল বোস বলে জানান। বাড়ি কোচবিহারে। তিনি আরও বলেন ২০১৬ সালে কলকাতা নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে তিনি এমডি এবং অন্যান্য ডিগ্রি অর্জন করেন।   এমনকি নিজেকে এসএসকেএম হাসপাতালের ডাক্তার হিসাবে পরিচয় দেন। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার আসল পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।