হাওড়া: তারাপীঠ, মির্জা গালিব স্ট্রিটের আতঙ্ক ফিরল হাওড়ায়। আন্দুলের বহুতলে আচমকাই আগুন লেগে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঝলসে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধার। পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে যে, আবাসনের ৩ তলার ফ্ল্যাটে আগুন লেগে যায়। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল পাশের ফ্ল্যাটে। দমকলের সঙ্গে স্থানীয়দের তৎপরতায় ১২জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ১ জনকে বাঁচানো যায়। শর্ট সার্কিট থেকেই দুর্ঘটনা বলে অনুমান পুলিশের।
এর আগে তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জনের প্রাণ গিয়েছিল। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডেও ৯ জনের প্রাণ হারিয়েছিল। রামপুুরহাটেও একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর আবাসনে আগুন লাগার এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে আবাসনে একটিই সিঁড়ি ছিল। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা আবাসনে ছিল কি না, তা নিয়েো প্রশ্ন উঠছে। যে মুহূর্তে দুপুর দেড়টা নাগাদ আগুন লাগে, তখন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।
দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন কাজ করছেন। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ও পুলিশের কর্মকর্তারাও পৌঁছেছেন এলাকায়। কী কারণ আগুন লাগল তা যদিও স্পষ্ট হয়নি। দমকল আধিকারিক জানিয়েছেন যে ফরেন্সিক পরীক্ষার পরই আগুন লাগার কারণ জানা যাবে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, দ্রুত আগুন গোটা ফ্ল্যাটে গ্রাস করছিল। হাওয়া বওয়ার কারণে ও সামনে ফাঁকা মাঠ থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গোটা আবাসনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নীচে নেমে আসেন। দমকলকর্মীক নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুরো জায়গাটা ইতিমধ্য়ে।
এদিকে এই ভয়াবহতায় আতঙ্কিত এলাকার মানুষও। সাধারণ মানুষ বলছেন, 'চারিদিকে এত এত ফ্ল্যাট হচ্ছে। কিন্তু জলের কোনও সিস্টেম নেই। কীভাব পঞ্চায়েত, পুরসভা অনুমতি দিয়েছে।' বোঝাই যাচ্ছে যে সাধারণ মানুষের মধ্য়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
ফ্ল্যাটের যে আবাসনে আগুন লাগে, সেটি প্রায় ধ্বংসস্তুপ পরিণত হয়েছে। দাউদাউ করে বেশ কিছুক্ষণ জ্বলছে। বাইরেও হলকা বেরিয়ে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। কালো ধোঁয়া গোটা এলাকাকে ঘিরে নিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন যে সিঁড়িও দ্বিতীয় ছিল না। এমনকী সিঁড়ির প্রস্থও ছিল না। কালো ধোঁয়া ও গ্যাসের ফলে অনেকেই খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। যে বৃদ্ধা ঝলসে গিয়েছেন, তাঁকে মৃত অবস্থায় ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য় যে রিক্যুইজেশন, তাও দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত গোটা এলাকায় একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ হয়ে রয়েছে।
