সুনীত হালদার, সালকিয়া : উত্তর হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের অফিসে চলল বুলডোজার। সালকিয়ায় গৌতম চৌধুরীর কার্যালয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল হাওড়া পুরসভা। পুরসভার দাবি, বেআইনিভাবে এই অফিস নির্মাণ করা হয়েছিল। গোটা বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। এদিকে হাওড়া পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি।
এ প্রসঙ্গে হাওড়ার বিজেপি নেতা রবি সাউ বলেন, "এটা ছিল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। নেশার আড্ডা। মাতালদের আড্ডা ছিল। কর্পোরেশন ভাঙছে। খুব ভাল কাজ করছে। মানুষের পক্ষে ভাল। অফিসটা তো পুরো বেআইনি। কর্পোরেশনের জায়গায় বেআইনিভাবে বানিয়েছিল। বেআইনি অফিস। আজ কর্পোরেশন ভাঙছে। জনতার সরকার এসেছে। বিজেপি যা বলে...জনগণের সঙ্গে আছে।"
গত জুলাই মাসে একইভাবে শিলিগুড়িতে চলেছিল বুলডোজার। নদীর বাঁধের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ তৃণমূল কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল শিলিগুড়ি পুরসভা। শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে নদীর বাঁধের ওপরেই গড়ে উঠেছিল একটি তৃণমূল কার্যালয়। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, ওই অফিসটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে বাঁধের ওপর কোনও অফিস গোড়ে তোলা যায় না। কিন্তু আপত্তি থাকা সত্ত্বেও, তৃণমূল সরকার থাকাকালীন, বহাল তবিয়তে ছিল ওই তৃণমূল অফিস। তবে রাজ্যে সরকার বদলের পরে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ওই বেআইনি নির্মাণ।
শিলিগুড়ি পুরসভার উদ্যোগে বুলডোজার অভিযান চালিয়ে ওই পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুরসভা সূত্রে জানা যায়, নদীর বাঁধের ওপর অনুমতি ছাড়া নির্মিত হওয়ার কারণে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পার্টি অফিস নিয়ে আপত্তি ছিল। নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, পুরসভার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। বুলডোজারের সাহায্যে অল্প সময়ের মধ্যেই অবৈধ নির্মাণটি ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেই কারণে ঘটনাস্থলে প্রধান নগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। গোটা অভিযান জুড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হয়েছিল।
এর আগে মে মাসে আসানসোলে এ ধরনের চিত্র দেখা গিয়েছিল। আসানসোলে চলেছিল বুলডোজার। ভাঙা হয়েছিল SAIL-এর জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তৃণমূলের পার্টি অফিস। বুলডোজার গুঁড়িয়ে দেয় বেআইনিভাবে তৈরি ২ টি পার্টি অফিস। সংস্থার তরফে আগেই পার্টি অফিস ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তাতে তৃণমূল কংগ্রেস কান দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর তৃণমূলের পার্টি অফিস ভেঙে ফেলা হয়।
