সুনীত হালদার, উদয়নারায়ণপুর: রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অতিবৃষ্টির জেরে জল থইথই চারিদিক। কোথাও বন্যা পরিস্থিতি উপনীত হয়েছে, তো কোথাও চালানো হচ্ছে নৌকা। বাঁধ উপচে জল ঢুকছে উদয়নারায়ণপুরের বিভিন্ন গ্রামেও।

Continues below advertisement

ইতিমধ্যেই আজ সকাল থেকে উদয়নারায়ণপুর ব্লকের কুরচি শিবপুর, শিবানীপুর, টোকাপুর, হরিহরপুর, হোদল সহ নদী সংলগ্ন একাধিক গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করেছে। উদয়নারায়ণপুর থেকে ডিহিভুরশুট যাওয়ার রাজ্য সড়কের একাধিক জায়গা ইতিমধ্যেই জলমগ্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, মাটির বস্তা ফেলে একাধিক জায়গায় বাঁধ রক্ষার কাজ চালাচ্ছে প্রশাসন।          

ছবিটা সর্বত্রই কম বেশি এক। ঘাটালের বিস্তীর্ণ অংশে বাড়ছে জল। শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জল বেড়ে জলমগ্ন ঘাটাল ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। বাড়ি-ঘরে জল ঢুকে জীবন জেরবার সাধারণ মানুষের। পরিস্থিতি এমন যে জলমগ্ন ক্লাস রুমের ভেতর দেখা গেছে সাপ। সামনেই পুজো তার আগে বানভাসী ঘাটাল এলাকার মানুষজন। জলমগ্ন পরিস্থিতি ঘাটাল জুড়ে জলে ডুবেছে রাস্তা ঘাট, জল পেরিয়ে চলছে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত।       

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- ঘাটালে বন্যা আশঙ্কা, বেড়েছে জল, জল পেরোত চলছে ডিঙি নৌকা 

অপরিদকে আবার ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টির জেরে লাগাতার জল ছাড়ছে ডিভিসি। সেই জল খানাকুলের নদনদীতে প্রবেশ করতেই প্লাবিত হতে শুরু করেছে খানাকুলের নিচু এলাকাগুলি। নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য খানাকুলের নদীগুলিতে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে বহু জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। খানাকুল-১, জগৎপুর, মাড়োখানা, ধান্যঘোরী পঞ্চায়েতের বেশকিছু গ্রামে ঢুকতে শুরু করেছে জল। বেশকিছু এলাকায় একতলা বাড়ি পুরোপুরি জলের তলায়।         

অনেকে ছাদে ত্রিপল খাটিয়ে বসবাস করছেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও হাঁটুজল, কোথাও কোমর সমান জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক জায়গায় বাড়ি থেকে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। এলাকার রাস্তায় বইছে জল। মাড়োখানার সুন্দরপুর, চাঁদকুণ্ডু, বউবাজার, বারনন্দনপুর, জগৎপুর সহ বেশকিছু গ্রামে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ালে খানাকুলের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জল দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তবে বানভাসি মানুষের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে।