উলুবেড়িয়া: হাওড়ার উলুবেড়িয়ায়, মহিলা চিকিৎসককে মারধর ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ। প্রতিবাদে উলুবেড়িয়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে 'পেন ডাউন কর্মসূচি' সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত 'পেন ডাউন কর্মসূচি' চলবে বলে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চলবে এই কর্মসূচি। এর আগে, এই কর্মসূচি বাতিলের আবেদন করেছিলেন অধ্যক্ষ।
হাওড়ার হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি ও মারধরের অভিযোগে দিনভর প্রতিবাদে সরব চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন। প্রতিবাদে পথে নেমেছিল বিজেপিও। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শোকজ করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী সরবরাহকারী রিলায়েবল সহ ২ ঠিকাদার সংস্থাকে। পাঁশকুড়ার হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত জাহির আব্বাস খানও ছিলেন রিলায়েবল সংস্থারই ফেসিলিটি ম্যানেজার।
আর জি কর-কাণ্ডের পর নজিরবিহীন প্রতিবাদ দেখেছিল এই শহর, এই রাজ্য়। কিন্তু, তারপরও এরাজ্য়ের একাধিক হাসপাতাল থেকে সামনে আসছে ভয়াবহ সহ অভিযোগ। এবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় সরকারি হাসপাতালে এই মহিলা জুনিয়র চিকিৎসককে মারধরের পাশাপাশি ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে ব অভিযোগ! এই ঘটনা ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সরকারি হাসপাতালে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে।বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। এত বড় ঘটনা ঘটে গেল, তখন কোথায় ছিলেন নিরাপত্তা রক্ষীরা? আর জি কর-কাণ্ডের পরেও কি তাহলে হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা সেই তিমিরে?
এই ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক-স্বাস্থ্য কর্মীরাও। হাসপাতালে নিরাপত্তা যে ঢিলেঢালা, তা মেনে নিয়েছেন, খোদ তৃণমূলেরই চিকিৎসক বিধায়ক নির্মল মাজি। তিনি জানিয়েছিলেন, ''এখানে যারা কাজ করে, আজকে ধরুন ডিউটি, হাসপাতালে ইন্টারনাল সিকিউরিটি, তাদের মধ্যে ৩০-৩৫ ভাগ তারা আসে না, অ্যাবসেন্ট থাকে। মহিলা নিরাপত্তাকর্মী বাড়াতে হবে। আইডি, ইউনিফর্ম। কোলাপসিবল গেট এমন করতে হবে যাতে একজনের বেশি ঢুকতে না পারে।''
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ সনৎকুমার ঘোষ বলেছিলেন, নিরাপত্তায় খামতি ছিল । বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ভিজিটিং আওয়ারে ঢুকে গিয়েছে। পুলিশের অভিযোগ করা হয়েছে। প্যানিক বাটন বসানো হবে।''এই ঘটনা সামনে আসার পর প্রতিবাদের ঝড় আছড়ে পড়েছে। বুধবার দোষীদের গ্রেফতারের দাবিয়ে হাওড়া গ্রামীণের পুলিসের সুপারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। পুলিশ ব্যারিকেড করে আটকাতে চাইলে বাধে তুমুল ধস্তাধস্তি। এছাড়া বুধবার বাম ছাত্র ও মহিলা সংগঠনের পক্ষে থেকেও বিক্ষোভ দেখানো হয় হাসপাতালের সামনে। বিক্ষোভ দেখায় চিকিৎসকদের সংগঠনও।