কলকাতা: নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গে ক্রমাগত বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, স্থলভাগের দিকে আরও এগিয়ে এসেছে, অতি গভীর নিম্নচাপ। সমুদ্র ছেড়ে এই নিম্নচাপ স্থলভাগে ঢুকে ক্রমশই এগোচ্ছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। বর্তমানে, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর উপকূলভাগে অবস্থান করছে অতি গভীর নিম্নচাপ। এর ফল কী হতে পারে? আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, স্থলভাগে পৌঁছে ক্রমে শক্তি হারাবে গভীর নিম্নচাপ। তবে বর্তমানে দুর্যোগ না হলেও, এই নিম্নচাপের জেরে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি চলছে দক্ষিণবঙ্গে। আর দফায় দফায় এই বৃষ্টির জেরেই,  জল থৈ থৈ হাওড়া পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা। নিচু এলাকার মূল রাস্তা ছাড়াও ,অলিগলিতে এখনও জল জমে রয়েছে। তবে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন শহরের বিভিন্ন পুজোর ক্লাবের সংগঠকেরা। এত বৃষ্টি হলে, পুজোর আগে মণ্ডপের কাজ শেষ হবে কি না, সেই বিষয়টাই সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে পুজো উদ্যোক্তাদের।

Continues below advertisement

অতি বৃষ্টি, জলে ডুবেছে হাওড়ার একাধিক এলাকা! থমকে রয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ 

গতকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে হাওড়া পুরসভার নিচু এলাকার একাধিক জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সালকিয়া, রামরাজাতলা, টিকিয়াপাড়া, বেলগাছিয়া, ঘুসুড়ি, লিলুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর এতে সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন, পুজোর সংগঠকেরাও। হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন বাকি বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের। দুর্গাপুজোর। কিন্তু পুজোর আর এক মাসও বাকি নেই যখন, সেই সময়ে পুজো মণ্ডপের এই ছবি যথেষ্ট চিন্তায় ফেলছে পুজো উদ্যোক্তাদের। অধিকাংশ পুজোই, মহালয়ার আগে পুজো মণ্ডপের কাজ শেষ করে ফেলতে চাইছেন। কিন্তু অতি বৃষ্টির ফলে থমকে গিয়েছে, মণ্ডপসজ্জার কাজ। হাওড়ার একাধিক মণ্ডপে জল জমে যাওয়ায়, কার্যত কাজ করতে পারছেন না শিল্পীরা। প্রত্যেকেই অপেক্ষা করছেন, কখন জল নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই জন্য।

Continues below advertisement

মধ্য হাওড়ার পাগলা ফৌজ ক্লাবের কর্মকর্তা সৌমেন রায় জানাচ্ছেন, অল্প বৃষ্টিতেই এখানে জল জমে যায়। এবারের বৃষ্টিতে মণ্ডপের মধ্যে জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে কাজ করতে পারছেন না শিল্পীরা। মহালয়ার আগে থিমের প্যান্ডেলের কাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগে রয়েছেন। প্রশাসনের কাছে জল নামানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করা হলেও, এখনও পর্যন্ত কিছুই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, মধ্য হাওড়ার সহযাত্রী ক্লাবের পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক শিবশঙ্কর সাধুখাঁর কপালেও চিন্তার ভাঁজ। তিনি বলেন বৃষ্টির জন্য গত ৩ দিন শিল্পীরা কোন কাজ করতে পারেননি। অথচ এখনও পর্যন্ত মণ্ডপের কাজ মাত্র পঞ্চাশ শতাংশ হয়েছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।

 

আরও পড়ুন: Riverbank Erosion: রাতভর বৃষ্টি, তারপরেই ভাঙনে তলিয়ে গেল একের পর এক জমি-বাড়ি! দিশেহারা মানুষ, বাঁচল না কিছুই