কোনও কোনও দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় জীবনের গতি। বেঁচে থাকাটাই হয়ে ওঠে বিরাট চ্যালেঞ্জ। আবার কেউ কেউ সব প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পন্থা খুঁজে বের করে নেয়। তেমনই উদাহরণ সৃষ্টি করলেন উদয়নারায়ণপুরের কানুপাট গ্রামের বাসিন্দা অর্পণ সামন্ত। 

কারখানায় কাজ করতে করতে একটি হাতের কনুই থেকে পুরোপুরি কেটে যায় অর্পণের। জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। তবে জীবনে নতুন দিশা দেখান চিকিৎসকরা। তাঁরা সেই কাটা হাত জোড়া দেন। রবিবার প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে ওই কাটা হাত দিয়ে জাতীয় পতাকা তোলেন অর্পণ। সেই সঙ্গে সকলকে বলেন, জীবনে একটা দুর্ঘটনা মানেই সব শেষ নয় ! 

এদিন একটু অন্যভাবে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করে হাওড়ার নারায়ণা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। পতাকা উত্তোলন করে অর্পণ । উদয়নারায়নপুরের বাসিন্দা অর্পণের বয়স ৩৮। গত বছর অগাস্ট মাসে কারখানায় কাজ করতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। মেশিনে হাত ঢুকে গিয়ে বাঁ হাতের কনুই থেকে বাদ চলে যায়। সেই হাত সাত ঘন্টা জটিল অপারেশনের মাধ্যমে জোড়া লাগানো হয় এই হাসপাতালে। 

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে আর সেই জোড়া লাগানো হাত দিয়েই পতাকা উত্তোলন করেন অর্পণ। তিনি বলেন, ' ভাবিনি কাটা হাত জোড়া লাগবে কোনোদিন। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টায় তা সফল হয়েছে।'

আরও পড়ুন : ছড়াচ্ছে স্নাুয়ুর বিরল রোগ, মহারাষ্ট্রে মৃত্যুর খবর,GBS নিয়ে কী জানাচ্ছে WHO?

 হাসপাতালের চিকিৎসক  আদিত্য কানোই জানান, কতটা  চ্যালেঞ্জিং ছিল সেই অপারেশন। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ও মনের জোরে এখন অনেকটাই সুস্থ অর্পণ।  তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও অনেকটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।                      

এখনও রয়েছেন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে। হাত নাড়াতে পারছেন তিনি।  তাড়াতাড়িই সম্পূর্ণ হয়ে উঠবেন তিনি, আশাবাদী চিকিৎসকরা। হাসপাতালের ডিরেক্টর, তপানি ঘোষ জানান, কেউ অসুস্থ হলে মনের জোর ভেঙে যেতে পারে। অর্থনৈতিকভাবেও সেটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাটা খুবই জরুরি। তাই নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁকে সুস্থ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা ।  প্রজাতন্ত্র দিবসে তাই অর্পণের বার্তা, বিপদ এলেও হতাশা নয় !  

আরও পড়ুন, পানাগড় ব্যবসায়ী অপরহরণকাণ্ডে গ্রেফতার B.Tech ইঞ্জিনিয়ার ও ECL কর্মী ! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য..