পার্থপ্রতিম ঘোষ, ঝিলম করঞ্জাই, বেলডাঙা : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়  নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টির জনসমাবেশে হিন্দুদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন হুমায়ুন কবীর। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে করলেন ক্ষুরধার আক্রমণ। একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করলেন সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন। বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই তিনি হিন্দুদের আঘাত করেছিলেন !  ২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে, '৭০-৩০' মন্তব্যের জন্য শনিবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড নেতা, ভরতপুরের বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। ২০২৪-এ রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শক্তিপুরে। এরপর সেখানে সভা করতে এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মুখেই শোনা যায়, 'উল্টো ঝুলিয়ে ঠিক করে দিতাম' মন্তব্য। পরবর্তীতে সেই শক্তিপুরেই একটি সভায় হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য ঘিরে প্রথমে রাজ্য ও পরে দেশজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ''কত ধানে কত চাল হয়, দু'ঘণ্টার মধ্যে তোমাদের যদি ভাগীরথীর গঙ্গায় না ফেলতে পারি রাজনীতি থেকে সরে যাব। শক্তিপুর এলাকায় বসবাস করা বন্ধ করে দেব। তোমরা হাতির পাঁচ পা দেখেছ? কিন্তু যদি ভেবে থাকো যে ৩০% লোক মুর্শিদাবাদ জেলায় আর আমরা ৭০%।' এখন সেই হিন্দুদের থেকেই ক্ষমা চেয়ে তিনি বললেন, 'আমি মুখ্যমন্ত্রীর কথা রাখতে গিয়ে হিন্দুদের আঘাত করেছিলাম। তার জন্য আমি হিন্দুদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আগামী দিনে কাউকে জেতানোর জন্য উস্কানিমূলক কথা বলবে না। আমি যে কথা বলেছিলাম, তার জন্য অনেক কথা শুনতে হয়'। উল্টে হুমায়ুনের সাফাই, 'যোগী আদিত্যনাথ উল্টো করে ঝোলানোর কথা বলেছিলেন...আমি যোগী আদিত্যনাথের কথাই বলেছিলাম'' হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ও নতুন দল ঘোষণার আবহে তাঁর পুরনো মন্তব্য আলোচনায় উঠে এসেছে। 

Continues below advertisement

শনিবার রেজিনগরের সভা থেকে হুমায়ুন দাবি করলেন, ' মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেছিলেন, ইউসুফ পাঠান হেরে যাচ্ছে। তুমি একটা কিছু করো'। আর তারপরই সক্রিয় হয়ে ওঠেন হুমায়ুন। তিনি বলেন,  'ইউসুফ পাঠানকে জেতানোর জন্য মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় আমাকে বলেছিলেন। মুর্শিদাবাদের মানুষ তোমার কথা শোনে, তুমিই পারবে'। 

২৪-এর ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল হুমায়ুন কবীরের ভাগিরথী নিয়ে মন্তব্য । আর কয়েকমাস পরেই ছাব্বিশের বিধানসভার মহারণ । আর এবার নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েই শুরুটা করলেন হুমায়ুন। 

Continues below advertisement