কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে ফের সংঘাত! I-PAC-এর কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে ED-র তল্লাশি অভিযানের মাঝেই হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী! তুললেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক নথি চুরির অভিযোগ। এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।
তিনি এদিন বলেন, হঠাৎ করে কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইপ্যাকের জন্য এত তৎপর হলেন কেন ? এই আইপ্যাকের পরামর্শে তাঁদের বুদ্ধিতে, সমস্ত কিছু আদেশে নির্দেশে, তৃণমূল প্রার্টিটা চলে। এই আইপ্য়াক , গ্রামে কে পঞ্চায়েত প্রধান হবে, কে পঞ্চায়েতের টিকিট পাবে, কে অঞ্চল সভাপতি হবে ? সব কিছু তাঁরা ঠিক করে। তর জন্য অকশন হয়, এমন এমনি নয়। সেই টাকা চলে যায় খোকাবাবুর কাছে।এবং তাঁরা তো নিজেরা মারেই সেই টাকা। তো সেই রকম একটা কুখ্যাত বিখ্যাত আইপ্যাকের জন্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুখ্যাতি নষ্ট হতে পারে।তার জন্য তার বড় যন্ত্রণা হচ্ছে। তার জন্য দৌঁড়ে গিয়েছেন। অথচ ইডি বা সিবিআই এর আগে আরও অনেক জায়গায় রেড করেছে, তখন কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথাব্যাথা হয়নি।'
কয়লা পাচার মামলায় ইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। এদিন সাত সকালে লাউডন স্ট্রিটে আই প্য়াক কর্ণধারের বাড়ি ও সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে তাঁর অফিসে একযোগে অভিযান চালায় ইডির তদন্তকারীরা। আর তল্লাশি চলাকালীন দুই জায়গাতেই পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোথাও নিজেই নথি হাতে বেরিয়ে এলেন। কোথাও তার নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ নথি নিয়ে এসে গাড়িতে তুললেন। বিজেপি ও ইডিকে আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিল বিরোধীরাও।
শীতের বৃহস্পতিবার তপ্ত হয়ে উঠল!আই প্য়াকের কর্ণধার ও তাঁর অফিসে কয়লা কাণ্ডে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডির অভিযান-তল্লাশি!আর দু জায়গাতেই পৌঁছে গেলেন খোদ মুখ্য়মন্ত্রী।কোথাও কলকাতার পুলিশ কমিশনার! কোথাও রাজ্য় পুলিশের ডিজি, আর চমকে ওঠার মতো বিষয় হল, ইডির অভিযান চলাকালীন, তাঁদের সামনেই, ভিতর থেকে নথি-ল্য়াপটপ-ইলেকট্রনিক্স সাজ সরঞ্জাম বের করে নিয়ে চলে গেলেন খোদ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়!আর সবটাই দেখলেন ইডি অফিসাররা!
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ফরেন্সিক দল নিয়ে এসে নথি ও তথ্য ট্রান্সফার করে নিয়ে গিয়েছে। ওরা (ED)যা করেছে, ঠিক করেনি। এনিয়ে FIR করা হবে। ফরেন্সিক দলের বিষয়ে FIR হবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ভারতে কোথাও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি ইডি-সিবিআইকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের ভাবমূর্তির শেষ পেরেক পুঁতলেন। সারা দেশের সামনে বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট হল।