কলকাতা : দিনকয়েক জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছিল রাজ্যে। কনকনে ঠান্ডায় রাজ্যের অনেকেই কার্যত 'গৃহবন্দি' হয়ে পড়েছিলেন। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুনে হাত পোহাতে দেখা গেছে মানুষকে। হাড়কাঁপানি সেই ঠান্ডা গত কয়েকদিন ধরে আর অনুভূত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন, তাহলে কি এবারের মতো বিদায় নিল তীব্র শীত ? এনিয়ে এবার বড় পূর্বাভাস দিল IMD। চলতি সপ্তাহান্ত থেকেই ঠান্ডা কমতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। জানিয়ে দিল হাওয়া অফিস। রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় ন্যূনতম তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

Continues below advertisement

IMD জানাচ্ছে, রাজ্যে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। আগামী পাঁচদিন সকালের দিকে কুয়াশা থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়তে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা। কম ঘন থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যাবে রাজ্যের অন্যান্য জায়গাগুলিতে। IMD সূত্রে খবর, রবিবার থেকেই রাজ্যে ঠান্ডা আবহাওয়া কমতে চলেছে।

বুধবার সকালে দার্জিলিঙের উপরের ভাগ সবথেকে শীতলতম জায়গা থেকেছে। যা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। সার্বিভাবে পাহাড়ি শহরে ন্যূনতম তাপমাত্রা থেকেছে ৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনই জানিয়েছে IMD । হাওয়া অফিস আরও বলছে, রাজ্যের সমতলভূমির মধ্যে এদিন সবথেকে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে শ্রীনিকেতনে। ৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারপরেই রয়েছে কোচবিহার ও বাঁকুড়া। এই দুই জায়গায় দেখা গেছে ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া জলপাইগুড়িতে ৯.৬ ডিগ্রি, কল্যাণীতে ৯.৮, বহরমপুরে ১০.২ ডিগ্রি ও মেদিনীপুরে ১১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার কলকাতার ন্যূনতম তাপমাত্রা ১৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Continues below advertisement

প্রসঙ্গত, বিগত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই পরিস্থিতিতে তীব্র ঠান্ডা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দিল্লি এইমসের চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের ঠান্ডা জারি থাকলে শরীরের দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। প্রভাব পড়তে পারে কিডনি, ফুসফুস ও হৃদয়ে।

AIIMS-এর কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান রাজীব নারাং বলছেন, অত্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া সরাসরি একজন ব্যক্তির রক্তচাপকে প্রভাবিত করে। শীতকালে, রক্তনালীগুলি সংকুচিত হয়ে যায় এবং জল খাওয়ার পরিমাণও কম হয়, যা রক্ত ​​প্রবাহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, এই সময়ে লবণাক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই সমস্ত কিছুর সমন্বয়ে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই, এই সময়ে নিয়মিত BP চেক করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক নারাং। শীতকালে হাইড্রেট রাখতে হবে শরীরকে।