সমীরণ পাল, বারাসাত: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থির পরিস্থিতি। এবার সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংযোগের উদ্যোগ নিল BSF। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ফুটবল ম্যাচের আয়োজন BSF-এর।
জনসংযোগের উদ্যোগ: জানা গিয়েছে, ঝাউডাঙা ও রামনগর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে এই ফুটবল টুনার্মেন্টের আয়োজন করা হয়। ঝাউডাঙা বিওপি-র বিএসএফ আধিকারিকরা এই উদ্যোগ নেয়। ম্যাচ চালাতে সহযোগিতা করেছে পিপলি বিওপি। চলতি সের ৭ তারিখ থেকে টুনার্মেন্ট শুরু হয়। ৮ টি দল এই টুনার্মেটে অংশগ্রহণ করে। গতকাল ১১ জানুয়ারি ছিল ফাইনাল খেলা। ফাইনালে গাইনপাড়া ও ঝাউডাঙা মুখোমুখি হয়। ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে পিপলি খেলার মাঠে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ-র একাধিক আধিকারিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রামনগর ও ঝাউডাঙা গ্রামপঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিরা। খেলার মাঠে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএসএফ-এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সীমান্তের বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, বিএসএফ সীমান্ত পাড়ারা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকে। যাতে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। সীমান্তে বিএসএফ-এর সঙ্গে তাঁরা আছে। কোনও ধরনের অসুবিধা হলে তাঁরাও বিএসএফ-এর সঙ্গে কাঁধে কাধ মিলিয়ে পাশে থাকবেন।''
বাংলাদেশে পালাবাদলের পর সীমান্তে ভারতীয় গ্রামবাসীদের উপর বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের অত্যাচার বেড়ে গেছে বলে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বাধা ঘিরে গন্ডগোলের পর থেকে, মালদার বৈষ্ণবনগরের সুখদেবপুরে অরক্ষিত সীমান্তে এখনও কাঁটাতার দেওয়ার কাজ বন্ধ রয়েছে। BSF সূত্রে খবর, শনিবারও দুদেশের মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। BSF সূত্রে দাবি, সীমান্তের ওপারে দেড়শো গজ এলাকায় যেহেতু বহু ভারতীয় কৃষককে চাষের কাজে যেতে হয়, তাই চটজলদি কোনও পদক্ষেপ তারা নিতে চাইছে না। এ বিষয়ে 'ধীরে চলো' নীতিই নেওয়া হচ্ছে। বৈষ্ণবনগরের সুখদেবপুরে সীমান্তের ওপারে দেড়শো গজ় এলাকা বরাবর প্রায় হাজার বিঘা চাষের জমি রয়েছে। মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র জমা রেখে সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত সেখানে কৃষিকাজের জন্য চাষীদের যেতে দেয় BSF। বৈষ্ণবনগর সীমান্তে কাঁটাতার টানাপড়েনের পর নিরাপত্তার কারণে কয়েকদিন কৃষকদের সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। কিন্তিু, শুক্রবার থেকে ফের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ভারতীয় কৃষকরা জমিতে গিয়ে দেখেন ফসল নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বৈষ্ণবনগর সীমান্তে BGB যখন BSF-এর ফেন্সিংয়ে বাধা দিয়েছিল, তখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সুখদেবপুরের গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেও সীমান্তের ওপারে ফসল নষ্ট করা হচ্ছে তাঁদের।
আরও পড়ুন: Midnapore Saline Controversy: 'স্যালাইন প্রয়োগেই প্রসূতির মৃত্যু,' সন্দেহ ১৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি