পার্থ প্রতিম ঘোষ, রিষড়া: আজই বাড়ি ফিরছেন পাক-হেফাজত থেকে মুক্ত জওয়ান পূর্ণমকুমার সাউ। ২১ দিন পাকিস্তানের হাতে আটকের পরে মুক্ত হন BSF জওয়ান। ভারতের চাপে পাকিস্তান মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
পাক-হেফাজত থেকে মুক্ত: ঠিক এক মাস আগে ২৩ এপ্রিল, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরের দিনই পাকিস্তানের হাতে আটক হন তিনি। পঞ্জাবের পাঠানকোটে পাক রেঞ্জার্সের হাতে আটক হন পূর্ণমকুমার সাউ। দীর্ঘ আলোচনার পর ঘটনার ২১ দিন বাদে ১৪ মে, আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রত্যাবর্তন হয় তাঁর। পাক-হাতে আটক জওয়ানের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় পরিবার।
কী ঘটেছিল সেদিন?
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল ২৬টি প্রাণ। ভারত-পাক উত্তেজনার আবহে জঙ্গি হানার পরের দিনই আটক হন BSF জওয়ান। পঞ্জাবের পঠানকোটে কর্মরত অবস্থায় ভুল করে পাকিস্তানের সীমায় ঢুকে পড়েন পূর্ণম। তিনি গাছের তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখনই পাক রেঞ্জার্স তাঁকে আটক করে । সীমান্তে এমন ঘটলে সাধারণত দুই দেশ আলোচনা করে ফিরিয়ে দেয়। একাধিক বৈঠকের পরেও মুক্তি মেলেনি তাঁর। প্রায় ২১ দিন পূর্ণমকে দীর্ঘদিন আটকেই রাখা হয়। ঘটনার পর থেকেই গভীর উদ্বেগে ছিল তাঁর পরিবার। বিএসএফ জওয়ানের চোখ বাঁধা ছবি সামনে আসার পর সেই উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। বারবার ফ্ল্যাগ মিটিংয়েও সুরাহা মিলছিল না। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। স্বামীর মুক্তির জন্য অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই বিএসএফের সদর দফতরে পৌঁছে গিয়েছিলেন স্ত্রী রজনী সাউ। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মেলেনি ফল। অবশেষে গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন পূর্ণমকুমার সাউ। আর এবার তাঁর ঘরে ফেরার পালা।
ভারতের আরও এক কূটনৈতিক জয়। দেশে ফেরার ৯ দিনের মাথায় এবার ঘরে ফিরছেন পাক বাহিনীর হাতে বন্দি বাংলার বিএসএফ জওয়ান পূর্ণমকুমার সাউ। ভারতের প্রবল চাপের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে পাকিস্তান। গত ১৪ মে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পঞ্জাবের আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে পূর্ণমকুমার সাউকে হস্তান্তর করা হয়। পূর্ণমের বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা মা, অন্তঃসত্ত্বা ও সন্তান। দীর্ঘদিন পর ঘরের ছেলে ফিরছে ঘরে। তাই সাজসাজ রব রিষড়ার বাড়িতে। এদিন সকালে পুজোর আয়োজন করা হয়। ফুলও আল্পনা দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা বাড়ি। ছেলে যা যা খেতে ভালবাসে সেসব রান্নার আয়োজন করেছেন মা। সবার মুখেই স্পষ্ট স্বস্তি ছাপ।