কলকাতা: রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের জারি করা প্রোডাকশন ওয়ারেন্টকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন অনুব্রত। তাহলে কি এবার গরুপাচার মামলায় দিল্লির পথে অনুব্রত মণ্ডল? প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা সত্ত্বেও কেন গরুপাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে আদালতে পেশ করা হল না, এ দিন সেই প্রশ্ন তুলল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। দিল্লি হাইকোর্টে আবেদনের কথা আদালতে জানিয়েছে ইডি।
আদালত পাল্টা জানতে চায়, দিল্লি হাইকোর্ট কি তাতে কোনও স্থগিতাদেশ দিয়েছে? উত্তরে ইডি জানায়, না। এর পরই কেন অনুব্রত মণ্ডলকে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে হাজির করা হল না, তা লিখিতভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে জানানোর জন্য ইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। এদিকে দিল্লি হাইকোর্টে অনুব্রত মণ্ডলের করা মামলার শুনানি আগামী ১৭ই মার্চ হতে পারে।
সম্প্রতি অনুব্রত মণ্ডলের পরিচারকের ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট ফ্রিজ করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সিউড়ির সমবায় ব্যাঙ্কে বেনামি অ্যাকাউন্টের তদন্তে নেমে এই প্রথম কোনও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল সিবিআই। অনুব্রত মণ্ডলের পরিচারক বিজয় রজকের নামে খোলা ওই অ্য়াকাউন্টে এখনও ১৫ লক্ষ টাকা রয়েছে, যা তাঁর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বলে মনে করছে সিবিআই। এত টাকার উৎস কী? কে ওই টাকা রাখল? তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সিউড়ির সমবায় ব্যাঙ্কে ৩০০-র বেশি বেনামি অ্যাকাউন্ট খুলে গরুপাচারের কালো টাকা সাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে, সিবিআই সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির পরেও কেন কার্যকর নয়, গরুপাচার মামলায় (Cattle Smuggling Case) অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) গড়হাজিরায় প্রশ্ন তোলে আদালত। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হলফনামা তলব রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের।
দিল্লি হাইকোর্ট কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি বলে জানাল ইডি। স্থগিতাদেশ না থাকলেও কেন অনুব্রতকে হাজির করানো হল না, তাতে ইডি-কে পাল্টা প্রশ্ন করে আদালত। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হলফনামা তলব
মঙ্গলবার গরুপাচার মামলার শুনানি ছিল। শুনানি চলাকালীন, বাকিদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে পেশ করা হয়। তা বর্ধিতও হয়েছে। সেখানেই এ দিন অনুব্রতর গরহাজিরা নিয়ে প্রশ্ন তোলে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। গত ১৯ ডিসেম্বর ওয়ারেন্ট জারি করার পরও কেন এখনও পর্যন্ত অনুব্রতকে পেশ করা হল না আদালতে, জানতে চায় আদালত। কেন আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা হল না, প্রশ্ন তোলা হয়।
এর জবাবে ইডি জানায়, অনুব্রত রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে গিয়েছেন। সেখানে এখনও রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। তাতে পাল্টা প্রশ্ন তোলে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। বিচারক জানতে চান, স্থগিতাদেশ যখন আসেনি, তাহলে কেন অনুব্রতকে আদালতে হাজির করানো হল কেন? কেন কার্যকর করা হল না আদালতের নির্দেশ?
এ দিন ইডি-র কাছে আদালত জানতে চায়, আসানসোল জেলে গিয়ে যাঁকে গ্রেফতার করল ইডি, তার পর এত দৌড়াদৌড়ি, কেন তাঁকে আদালতে পেশ করা হল না। তাতে ইডি-র তরফে এ দিন আদালতে সময় চাওয়া হয়। এর পর ইডি-কে এক সপ্তাহ সময় দেয় আদালত। তার মধ্যে লিখিত হলফনামা জমা দিতে বলা হয়, যাতে অনুব্রতকে পেশ না করার কারণ জানাতে হবে।
দিল্লি হাইকোর্টে আগামী ১৭ মার্চ শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে অনুব্রতর আবেদনের এ দিকে, দিল্লি হাইকোর্টে আগামী ১৭ মার্চ শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে অনুব্রতর আবেদনের। এর আগে, ২১ ডিসেম্বরের শুনানির সময়ই মৌখিক ভাবে ইডি জানিয়েছিল, আদালত স্থগিতাদেশ দেয়নি। তারা অনুব্রতকে পেশ করার নির্দেশ কার্যকর করবে না আপাতত। কিন্তু স্থগিতাদেশ নেই যেখানে, সেখানে অুনুব্রতকে কেন হাজির করানো হল না, প্রশ্ন রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের।