কলকাতা: যাদবপুরের আনন্দপল্লিতে উত্তেজনা। সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলা, শহিদ বেদি ভাঙচুরের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া মহম্মদ সেলিমের। সেলিম বলেন, এই কলকাতার বুকেই গ্রামফোন কোম্পানি ছিল, এইচ এম ভি রেকর্ডস, হিস মাস্ট্রার্স ভয়েস। শমীক যেকথা বলছেন, এটা এইচ এম ভি। হিস মাস্ট্রার্স ভয়েস, নিজের ভয়েস না। প্রতিদিন আরএসএস, বজরং দল হাজারটা নাম নিয়ে নষ্টামি-গুণ্ডামী করছে। শুধু যাদবুপুরে নয়, তার আগের দিন সোনারপুরে করেছে। বারুইপুরে করেছে।গড়বেতায় করেছে। ..আইনের শাসন বলবৎ করতে হবে। ভোটের সময় বলা হয়েছে, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনব। সেখানে মানুষের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা-এটাকে গ্যারান্টি করতে হবে। এটা আমাদের দাবি।
আরও পড়ুন, হুমায়ুন কবীরের দলের নেতা গ্রেফতার
অপরদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya), ‘কোনও পার্টি অফিস ভাঙা, এরকম কোনও রাজনৈতিক সংষ্কৃতি বিজেপির নেই। এটা হতে পারে না। এই কাজ কোনওদিন বিজেপি করেনি। রাস্তায় এখনও কোনও পার্টির ফ্ল্যাগ পড়ে থাকে, আমি থেকে শুরু করে, এক কর্মী পর্যন্ত, অন্য দলের, সেই পতাকাটাকে তুলে একটা উচু জায়গায় রেখে দেয়। এই শিক্ষা আমরা পেয়েছি, আমরা ছোটবেলা থেকে। শহিদ বেদী ভেঙে দেবে, এই সংষ্কৃতি আমাদের নয়।’
ভাঙা হয়েছে জানালার কাচ, কাঠের দরজা, জানালা, ভেঙে ফেলা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। শনিবার রাতে যাদবপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে এভাবেই হামলা চালাল বহিরাগতরা।তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হয় ।মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার বলেন, ২ জনকে তো আমি চিনতে পেরেছি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে। তারা এলাকায় নতুন বিজেপিকর্মী নামে পরিচিত। ২০০-৩০০ লোক ছিল। নতুন যারা বিজেপি হয়েছে, তারাই এই কাণ্ডটা করেছে। লাঠিসোঁটা ছিল, অস্ত্র ছিল, স্বাভাবিক অবস্থায় তো কেউ ছিল না। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি করছে এটা। ওরা ভাবছে, এইগুলো করে কি তৃণমূল কংগ্রেসের মাথা নত করে দেবে? এত সোজা না। ৪ মাসে ওদের গ্রাফ পড়ে গেছে, তাই ওরা গুন্ডামি করে, সন্ত্রাস করে, মানুষের মনে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। একটা ফিয়ার সাইকোসিস তৈরি করতে চাইছে।
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি এ ধরনের হামলাকে সাপোর্ট করে না, এই ধরনের হামলাকে নিন্দা করে। আমি বিজেপির যারা কর্মী সমর্থক আছে তাদেরকে বলব বিজেপির কর্মপদ্ধতি, বিজেপি-নীতি অনুসারে চলতে। নব্য বিজেপি পুরাতন বিজেপি বলে কিছু হয় না। দুষ্কৃতী দুষ্কৃতীই হয়। 'বাঘাযতীনের পাশাপাশি, শনিবার রাতে, যাদবপুরের আনন্দপল্লিতেও দেখা দেয় উত্তেজনা। তৃণমূলের পার্টি অফিসের পাশাপাশি, ভাঙচুর করা হয় সিপিএমের একটি শহিদবেদি।
