কলকাতা: ছুটির দিনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমী উদযাপন। আর সেই নিয়ে উত্তেজনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ABVP এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে রামনবমী পালিত হচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর তার মধ্যেই পাল্টা স্লোগান তোলেন প্রতিবাদী ছাত্ররা। সাম্প্রদায়িক উস্কানি জোগানোর অভিযোগ তুলছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। (Jadavpur University)
বৃহস্পতিবার রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে রামনবমী। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা যেমন রাস্তায় নেমেছেন, শিক্ষাঙ্গনেও পুজোর আয়োজন হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে রামনবমী পালিত হচ্ছে। সেখানে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান তুলতে শোনা যায় পড়ুয়াদের। বলতে শোনা যায়, 'সিইউ-তে একটাই নাম, জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীরাম'। যাদবপুরেও রামনবমী পালন করছে ABVP এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। (Ram Navami 2026)
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দু'জায়গায় রামনবমীর পুজো হচ্ছে। একটি করছে ABVP, অন্যটি করছে জাতীয়তাবাদী সংগঠন। ক্যাম্পাসে এই পুজোর বিরোধিতা করতে এগিয়ে আসেন একদল পড়ুয়া। তাঁরা স্লোগান তোলেন, 'RSS-ABVP মুর্দাবাদ', 'ABVP দূর হটো', 'NSF মুর্দাবাদ', 'BJP-RSS মুর্দাবাদ', 'ক্ষুদিরামের এই মাটিতে নাথুরামদের ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই', 'প্রীতিলতার এই মাটিতে ধর্ষকদের ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই'।
ক্যাম্পে রামনবমী পালনের বিরোধিতা করে এক প্রতিবাদী ছাত্র বলেন, "ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও ধর্মীয় উৎসবই হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমাদের দেশের যে ধর্মীবিশ্বাস রয়েছে, সেই জায়গা থেকে বহু উৎসবই হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে সরস্বতী পুজো, দুর্গাপুজো, বিশ্বকর্মা পুজো সব হয়। ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয়, কোনও আপত্তি থাকে না। কিন্তু RSS-এর দৌলতে গত ১০ বছরে রামনবমী এমন একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে, সেখানে রামনবমীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক হিংসা, দাঙ্গা, মসজিদ-গির্জা ভাঙা, দলিত, আদিবাসী, মুসলিম, খ্রিস্টানদের হত্যা করার ডাক দেওয়া চলে আসছে। যে উৎসবকে সাম্প্রদায়িক হিংসায় ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বিরোধিতা করি আমরা।"
অন্য দিকে, পুজোর আয়োজন করা এক পড়ুয়াদের দাবি, "যারা নকশাল, যারা দান্তেওয়াড়ায় ৭৬ জন জওয়ানকে শহিদ করে, তাদের থেকে নৈতিকতার শিক্ষা নেব? এরা ছাত্র? এরা সন্ত্রাসবাদী, এরা নকশালবাদী, ক্যাম্পাসটাকে ধ্বংস করতে, ভারত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে ফেসবুকে হ্যাজ নামায়, ক্যাম্পাসে প্রোগ্রাম করে, গ্রাফিতি লেখে। এদের ক্যাম্পাস থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমরা পালন করব।"
এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি এতটাই তেতে ওঠে যে উপাচার্যকে ছুটে আসতে হয়। তিনি জানান, পুজোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। ক্যাম্পাসের শান্তি রক্ষার আবেদন জানান উপাচার্য। যদিও দক্ষিণপন্থী পড়ুয়াদের দাবি, "রামেন নামে ভয় পেয়েছে। ভূত ভয় পেয়ে ছটফট করছে। কট্টর বামপন্থীরা রামনাম শুনে ভয় পায়। তাই লাফালাফি করছে। রামের পুজো আটকানো যাবে না। রাম ভারতের, বহিরাগত নয়। ইফতার পার্টি হচ্ছে, বাইরে থেকে লোক আসছে, তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। রামনবমী ঘিরে লাফালাফি।"
