কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রাক্তন সেনাদের টহল। সুরক্ষা বিতর্কের মধ্যেই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন প্রাক্তন সেনাকর্মীরা। কাজ শুরু করলেন দু'জন সুপারভাইজার এবং ৩০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মী। একাধিক মৃত্যু নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই আবহেই প্রাক্তন সেনাকর্মীদের টহল। শিক্ষাপ্রাঙ্গনে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের টহলের এমন ঘটনা বেনজির। (Jadavpur University)
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাক্তন সেনাকর্মীরা টহল দিচ্ছেন, তাঁরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছেন, এই দৃশ্য নতুন। কিন্তু এক্ষেত্রে যে যুক্তি উঠে আসছে, তা হল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বার বার। ব়্যাগিংয়ের জেরে হস্টেলে তরতাজা ছাত্রের মৃত্যু, কিছু দিন আগে জলে ডুবে মারা গিয়েছেন এক ছাত্রীর। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে তাই লাগাতার প্রশ্ন উঠছিল। এমনকি এ নিয়ে মামলা পর্যন্ত চলছে, যা আদালতের বিচারাধীন। (Jadavpur University Security)
আর সেই পরিস্থিতিতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিরাপত্তারক্ষী, রাজ্যের নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি, প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে। আজই সরকারি ভাবে প্রাক্তন সেনাকর্মীরা যদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন। রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ৩০ জন এসেছেন। প্রাক্তন সেনাকর্মী তাঁরা। রাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন সেনাকর্মীরা টহল দিচ্ছেন, এমন ঘটনা এই প্রথম।
তবে গত কয়েক বছরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা চোখে আঙুল দিয়ে নিরাপত্তাহীনতা দেখিয়ে দিয়েছে। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োগ করেছেন। এদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রাক্তন এক সেনাকর্মী বলেন, "সেনাতে চাকরি করার পর, রাজ্যের সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে আমরা নিয়োগপত্র পাই। আমরা আবেদন করেছিলাম। এখানকার নিরাপত্তা মজবুত করতে পাঠানো হয়েছে। দু'জন সুপারভাইজার ও ৩০ জন গার্ড এসেছি ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখার জন্য।"
আর এক প্রাক্তন সেনাকর্মী বলেন, "আমরা প্রত্যেকেই সেনায় চাকরি করতা, প্রাক্তন সেনাকর্মী। আমাদের দক্ষতি, অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গোটা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দেখব, যাতে আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।" তবে প্রাক্তন সেনাকর্মীরা নিরস্ত্র অবস্থাতেই টহল দেবেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে।
অতি সম্প্রতিই স্থায়ী উপাচার্য পেয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় আড়াই বছর পর স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে সেখানে। নতুন উপাচার্য উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে দুই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব গ্রহণ করা ওয়েবকুপার প্রাক্তন সহ সভাপতি সেলিম বক্স মণ্ডলকে ঘিরে। তাঁকে নিয়োগ করতে শিক্ষামন্ত্রী চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ওয়েবকুপারই নেতা, উচ্চশিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের নমিনি মনোজিৎ মণ্ডলের। যদিওঅভিযোগ অস্বীকার করেছেন যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য। যদিও ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে কিছু জানেন না তাঁরা।