যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ার লিখন লেখার পুনরাবৃত্তি চলছেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার যুক্তিতে অনড় পড়ুয়ারা আর রাজ্যও অনড় 'দেশবিরোধী'স্লোগান লেখা যাবে না ! এবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে আয়োজিত RSS-এর শাখা সংগঠন বিদ্যা ভারতীর একটি অনুষ্ঠানে ফের যাদবপুরের দেওয়াল লিখন নিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে সরব হলেন ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ দেওয়াল লিখন নিয়ে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ লেখা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান তিনি। একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, যাদবপুরের দেওয়ালে ‘ফ্রি POK’ লেখা হলে তিনি তাতে সমর্থন করবেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লিখবেন ফ্রি প্যালেস্তাইন, সেটা আমি দেখব! যাদবপুরে দেওয়ালে লিখুন ফ্রি POK, আমি তাতে সমর্থন করব।”
এই অনুষ্ঠান থেকে বাম আমলে শিক্ষার হালহকিকত নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। বললেন, কমিউনিস্টদের আমলে রাজ্যে ইংরেজি শিক্ষায় কার্যত তালাচাবি পড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “কমিউনিস্টদের আমলে ইংরেজি পড়াশোনায় তালাচাবি লেগে গিয়েছিল।” পাশাপাশি অভিযোগ করেন , সেই সময় বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।
বাম সরকারের পর পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগের সরকার আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হত। তিনি বলেন, “এর আগের আমলের সরকার আর কিছুদিন চললে, আমাদের ঐতিহ্য হারিয়ে যেত।” এছাড়াও বিগত সরকারের শেষ দশ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি হয়েছিল এবং শিশুমনে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইতিহাস পড়ানোর ধরন নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্পর্কে জানতে পড়ুয়াদের ইতিহাসের বইয়ে অনেক পাতা উল্টাতে হবে। “জাতীয় শিক্ষানীতি আমরা এসেই গ্রহণ করেছি, প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম আবশ্যক করেছি”। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, সঠিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন এনেছেন এবং সেই পরিবর্তনের মাধ্যমেই রাজ্যের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিশা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই ফের মোছা হয়েছে ক্যাম্পাসের ভিতরের দেওয়াল লিখন। মুছে ফেলা হয়েছে কার্ল মার্ক্সের উক্তিও। উপাচার্যের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নয়, এই দেওয়াল লিখন মুছে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। দেওয়াল লিখন মোছাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে পড়ুয়াদের গলায়।
