কলকাতা : জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেছেন, পুজোর আগে-পরে বিজেপিতে যোগ দেবেন। তিনি এও বলেছেন যে, বিজেপিই তাঁদের এনসিপিআই- তে নিয়ে গিয়েছে। বর্ষীয়ান সাংসদের এও দাবি আদতে তাঁরা বিজেপিতেই যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ৩ সংখ্যালঘু সাংসদ, আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চাননি। কারণ সংখ্যালঘু সিট থাকায় এলাকায় সমস্যা হতে পারে তাঁদের।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, 'তাঁর ইচ্ছে হয়েছে বিজেপি যোগ দেওয়ার তিনি বলেছেন। বিজেপি তাঁকে নেবে কিনা সেটা তো বিজেপির ব্যাপার। ২০২১ সালের ২ মে- এর পর ২৭ দিনে ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন, ২০০ বিজেপির মহিলা কর্মী গণপধর্ষিতা, জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙা, থুতু ফেলে চাটানো, মাথা কামিয়ে দেওয়া, জরিমানা নিয়ে বাড়ি ফেরানো, অটো টোটো স্ট্যান্ড থেকে ছেলেদের বের করে দেওয়া... এগুলো বিজেপি ভুলে যায়নি। সুতরাং বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই সমস্ত পাপ মুছে যাবে, এমন মনে করার কোনও কারণ নেই।'
জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলছেন, 'আমরা বাকি ৩ জনকে বাদ দিয়ে ১৭ জন যোগ দেব বিজেপিতে। আমাদের পরিকল্পনা তৈরি আছে। বাকি ৩ জনকে বিভিন্ন দফতর দেওয়া হবে। তারাও NDA-কে সমর্থন করবে। NDA-এর সঙ্গে থাকবে। কিন্তু সরাসরি বিজেপিতে যাবে না। যেহেতু তাদের এলাকা সংখ্যালঘু এলাকা। কিছু সমস্যা সেখানে আছে। NDA-এর সমর্থক থাকবে তারা ও NDA-এর হয়ে কাজ করবে।'
NCPI ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলে দলবিরোধী আইনে পড়বেন না তো ?
এই প্রসঙ্গে কোচবিহারের সাংসদ বলেছেন, 'আমরা এখন NCPI। এখানে ২০-এর মধ্যে ১৪ জন গেলেই হবে। কিন্তু আমাদের আছে ১৭ জন। ফলে আমরা দল দলবিরোধী আইনে পড়ব না।" তাহলে কবে তাঁরা যোগ দেবেন বিজেপিতে? কোচবিহারের NCPI সাংসদ বলছেন, "হয়তো পুজোর আগে বা পরেই যোগ দেব বিজেপিতে।'
আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার, তাহলে দিলেন না কেন ?
জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বললেন, 'মাননীয় অমিত শাহের নেতৃত্বে আমরা ২০ জন সাংসদ সই করি। আমরা সিদ্ধান্ত নিই আমরা বিজেপিতে যোগ দেব। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দিতে গিয়ে আমাদের কিছু সমস্যা তৈরি হল। কারণ, আমাদের সঙ্গে ৩ জন সংখ্যালঘু সাংসদ ছিলেন। আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছিলেন না। তাঁদের এলাকায় সমস্যা তৈরি হবে।'
