রাজা চট্টোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে টাটার গাড়ির সেলস ও সার্ভিস সেন্টার শোরুমে হামলার তিন দিন পরেও অধরা অভিযুক্তরা। আতঙ্কে শোরুমের কর্মীরা। 

Continues below advertisement

শনিবারের তাণ্ডবের পর শিলিগুড়ি কমিশনারেটের ভোরের আলো থানায়, তিন জন দুষ্কৃতীর নামে অভিযোগ দায়ের করেন শোরুমের কর্ণধার। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে হামলার ছবি ধরা পড়েছে। কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টে শোরুমের কর্ণধারের বিরুদ্ধেই শ্লীলতাহানি, মারধরের অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

টাটা লক্স প্রাইভেট লিমিটেডের কর্ণধার বিশাল আগরওয়াল বলেন, 'সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আছে, আমি সেটা দিয়েছি পুলিশকে, তারপরেও আমার নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছে, খুনের চেষ্টার মামলা করেছে, বেআইনিভাবে ঢোকার মামলা করেছে, পুলিশে বলতে পারবে, ওদের কাছে আজ পর্যন্ত কোনও কাগজ জমা করেছে। একজন ব্যবসায়ী বিরুদ্ধে এইসব মামলা করা ঠিক নয়। যেরকম একটা অফিসারের সম্মান হয়, আমাদেরও মান সম্মান আছে, যাতা করতে পারে না।'                                                

Continues below advertisement

তিনি এও বলেন, 'আমাদের স্টাফ এখন কয়েকজন আসছে না, বিশেষত মহিলারা ভয় পাচ্ছেন'। বিশাল আগরওয়ালের উদ্যোগে ২০২০ সালে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বন্ধুনগরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে TATA MOTORS সেলস ও সার্ভিস সেন্টার। ১২ বিঘার বেশি জমির ওপর তৈরি এই শোরুম থেকে শুধু কমার্শিয়াল ভেহিকেল বিক্রি করা হয় না, এখান থেকে টাটা কোম্পানির তৈরি করা সেনা বাহিনীর মিসাইল, সমরাস্ত্র বহনকারী গাড়িগুলির যাবতীয় পরিষেবাও দেওয়া হয়। ৩০০-র বেশি মানুষ কাজ করেন সেখানে। অভিযোগ, শোরুম কর্তৃপক্ষ বাধা দিতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় ওই দুষ্কৃতীরা। তাদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।  

তিন পরও কেন অভিযুক্তদের ধরতে পারছে না পুলিশ? প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি।                                            

সোমবার জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন সেলস ও সার্ভিস সেন্টারের কর্ণধার। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পুলিশের তরফ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা কবে ধরা পড়বে?