অমিতাভ রথ, ঝাড়গ্রাম: গত কয়েকদিনে ভারী বর্ষণ, তার উপর জলাধার থেকে জল ছাড়ায় বিপত্তি। সুবর্ণরেখা জলস্তর বেড়ে ভাঙন ঝাড়গ্রামে। যার ফলে ঘরছাড়া একাধিক পরিবার। আতঙ্কে রয়েছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং গালুডি ও চাণ্ডিল জলাধার থেকে একাধিকবার জল ছাড়ার ফলে সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছিল। এর ফলে ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের ৭ নম্বর অঞ্চলের নিচু কমলাপুর এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। ইতিমধ্যেই নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে ২ টি পরিবার। এ ছাড়াও, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার আরও শতাধিক পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবার এলাকার এক পরিচিতের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে তাঁরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছেন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নদী ভাঙনের সমস্যা নিয়ে বারবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু নেওয়া হয়নি কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ। শুধু আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে তৃণমূলের দাবি, নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা বেরা জানান, "এই কাজ পঞ্চায়েত সমিতির আওতার বাইরে। বিষয়টি আমরা উপরমহলে জানিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।" অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, "এখানকার প্রশাসন নদী ভাঙন রোধে কোনওরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। জনগণের দুর্ভোগে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।" বর্তমানে এলাকায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন প্রশাসনের কাছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া: ২৫ শে জুন বুধবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে ঘূর্ণাবর্ত। ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে বাংলাদেশে সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর। উত্তর-পূর্ব অসমে আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতে বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা। বুধবার মেদিনীপুরে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। ভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি এবং হাওড়াতে। বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে।