সন্দীপ সরকার, কৃষ্ণনগর: তামান্না খাতুন (Tamanna Khatun) খুনের ঘটনায় এবার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। কালীগঞ্জের এই ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে নিহত তামান্না খাতুনের মায়ের সাক্ষাতের পরেই নদিয়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশে নতুন করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জন জেল হেফাজতে রয়েছেন। কালীগঞ্জের (Kaliganj) তামান্না খাতুন খুনের এই ঘটনায় বেআইনি জমায়েত, অস্ত্র-সহ হিংসা, খুন, খুনের চেষ্টা, ছিনতাই ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু হয়েছে। 

Continues below advertisement

কী ঘটেছিল? 

কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয় তৃণমূল (TMC)। এরপর তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ৯ বছরের ছোট্ট তামান্না খাতুন। এই ঘটনায় ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নিহতের পরিবার। উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। এরপর ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ২৩ জুন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নিহত তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন। আবেদন করেন যাতে নতুন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়, দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়। এরপর সেই সন্ধ্যাতেই নিহত তামান্নার পরিবার ভবানী ভবনে আসে, রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে দেখা করে। তারপরেই শুরু হয় তৎপরতা। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। ফলে মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪। এর মধ্যে একজন জামিন পেলেও ২৩ জন রয়েছে জেল হেফাজতে। এই ঘটনাতেই এবার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। একইসঙ্গে বেআইনি জমায়েত, অস্ত্র-সহ হিংসা, খুন, খুনের চেষ্টা, ছিনতাই ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। 

Continues below advertisement

  কী বলছেন নিহত তামান্না খাতুনের মা? 

এই ঘটনায় কিছুটা হলেও আশ্বস্ত নিহত তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন। পাশাপাশি, কালীগঞ্জের এই ঘটনা নিয়ে যারা দিনের পর দিন আন্দোলন চালিয়ে গেছেন, তারাও এই পদক্ষেপে স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ প্রসঙ্গে নিহত তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, "এক বছর আগে যেটা করার দরকার ছিল, সেটা এক বছর পরে হল। আমাদের মামলাটি নিয়ে ঢিলেমি চলছিল। চার্জশিট পেশ হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট।" বিগত সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, "আগের মন্ত্রী চাননি অপরাধীদের শাস্তি হোক। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সাধারণভাবে বাঁচার স্বাধীনতা পাক সেটা আগের মন্ত্রী চায়নি। এখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, ২৪ জনের এমন উপযুক্ত শাস্তি হবে যাতে এরপর কাউকে মারার আগে তামান্নার কথা ভাববে।" একইসঙ্গে তামান্নার মায়ের গলায় আশার সুর, বললেন, "এবার অন্তত আমার মেয়ের বিচারটা হবে।"