প্রদ্যোৎ সরকার, নদিয়া: দিন পনেরোর ব্যবধানে ফের নিজের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরেই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কালীঘাট-তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র। তাঁকে ঘিরে উঠল চোর স্লোগান। দেখানো হল কালো পতাকা। বিক্ষোভের দায় চাপড়ার বিধায়ক ও ঋতব্রত-তৃণমূলের জেবের শেখের ওপর চাপিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। পাল্টা উত্তর এসেছে জেবের শেখের তরফেও। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, এবার কালীঘাট-তৃণমূলের সঙ্গে BJP-র ‘সেটিং’ তত্ত্ব ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, "..খুব দুঃখজনক" নিজের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরেই এবার বিক্ষোভের মুখে পড়লেন'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দেখানো হল কালো পতাকা। উঠল চোর, গো ব্যাক স্লোগান। মঙ্গলবার চাপড়ার একটি বেসরকারি লজে কর্মিসভা ডেকেছিলেন মহুয়া মৈত্র। যেখানে উপস্থিত ছিলেন 'কালীঘাট-তৃণমূল' শিবিরে থাকা জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি এবং পলাশিপাড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমান। কর্মিসভা চলাকালীনই বাইরে একদল মানুষ কালো পতাকা নিয়ে জড়ো হন। শুরু হয় গো ব্যাক স্লোগান। কর্মিসভার শেষে মহুয়া মৈত্র বেরিয়ে এলে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সাংসদকে ঘিরে ধরে কার্যত শুরু হয় বিক্ষোভ। ফের শুরু হয় চোর স্লোগান। পাল্টা জয় বাংলা স্লোগান দেন মহুয়া মৈত্রর অনুগামীরা। 

Continues below advertisement

চাপড়ার বাসিন্দা  খলিল শেখ বলেন, 'আমাদের সাংসদ দীর্ঘদিন একটা কোনও কাজ করেনি। যতগুলো অশান্তি, তারওপর তোলাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের ফেনসিডিল থেকে শুরু করে কী না চাপড়ায় করেনি। চাপড়াটাকে টোটাল বিসর্জন দিয়েছে। আমরা তার বিপক্ষে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। ' বিক্ষোভের জন্য় 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর চাপড়ার বিধায়ক জেবের শেখকে দায়ী করেছেন মহুয়া মৈত্র।('কালীঘাট-তৃণমূল') সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম এরা কারা? এদের নাকি জেবের শেখ পাঠিয়েছে। তা আমি তাদের জিজ্ঞেস করব যে তারা কীসের জন্য কালো পতাকা আসে? জেবেরকে কালো পতাকা দেখানো উচিত।  যে চাপড়ার ভোট লুঠ করে তৃণমূল সিম্বলে জিতে সে আজকে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বেইমানি করে চলে গেছে। তাঁকে কালো পতাকা দেখানো উচিত।  এগুলো সব জেবের পাঠিয়েছে।'

 একসময় কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহুয়া মৈত্রের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন জেবের শেখ।স্থানীয় সূত্রে দাবি, বিগত লোকসভা নির্বাচনে চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মহুয়া মৈত্রকে বড় ব্যবধানের লিড দেওয়ার নেপথ্যে এই জেবের শেখেরই ভূমিকা ছিল অন্যতম। এদিনের বিক্ষোভের নেপথ্যে মহুয়া মৈত্র যখন জেবের শেখকে দায়ী করেছেন, তখন তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন 'ঋতব্রত-তৃণমূল' শিবিরে থাকা চাপড়ার বিধায়ক।  ('ঋতব্রত-তৃণমূল') চাপড়া বিধায়ক জেবের শেখ বলেন, তিনি চাপড়ার জন্য কী করেছেন? তারজন্যই তাঁকে আজকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। মহুয়া মৈত্রের খাস লোক কৃষ্ণনগর লোকসভায় জেবের শেখ ছিলেন। তাঁর একটাই এখন জ্বালা। যে জেবের শেখ নেই মানে তাঁর হাতের যেটা আসল অস্ত্র সেটা হাতছাড়া হয়েছে। তাই আজকে সেই জ্বালাটা তিনি মেটানোর জন্য আজ বারবার আমার নামের ওপরে তিনি এই কথাগুলো বলছেন। তিনি জেবের শেখ আতঙ্কে ভুগছেন।' এর আগে ১৪ অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। দিন পনেরো যেতে না যেতেই আবার বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কালীঘাট-তৃণমূলের এই সাংসদ।